০৮:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‌্যাবের অভিযানে পরকীয়ার জেরে হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৩০১৭ বার পঠিত হয়েছে

আবুল হোসেন বাবলুঃ

পরকীয়ার জেরে তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনককে গলা কেটে হত্যা মামলার এজাহারে উল্লেখিত একজন পলাতক আসামিকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

নিহতের স্ত্রীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের কিসামত দোগাছি গ্রামে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মতিউল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গত ০২ এপ্রিল গলা কেটে হত্যা করা হয়।নিহত মতিউল ইসলাম একই এলাকার হামিদ হোসেনের ছেলে। নিহত মতিউল ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তানের জনক। পরকীয়ার জেরে ওই ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত মতিউল ইসলাম একই এলাকার হামিদ হোসেনের ছেলে।

নিহতের স্ত্রীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায়, একই এলাকার একরামুল হকের স্ত্রী সাহেরা বানুর সাথে ভিকটিম মতিউলের প্রেম ছিল। প্রেমের একপর্যায়ে, মতিউল সাহেরাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে কিন্তু পরবর্তীতে সাহেরা বানু মতিউলকে তালাক দিয়ে তার প্রথম স্বামী একরামুলের কাছে ফিরে আসে। নিহত মতিউল ঢাকা থেকে নিজ গ্রামে ফিরে এসে সেখানে বসবাস করতে থাকেন। তবে ওই ঘটনার জের ধরে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় (০২ এপ্রিল) ২০২৬ বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে চায়ের দোকানে বসে সাহেরা বানুর ছেলে আলামিন (২৩) এর সঙ্গে মতিউলের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আলামিন তার হাতে থাকা তামাক কাটার ধারালো কাস্তে দিয়ে মতিউল ইসলামের গলায় আঘাত করে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মতিউলের মৃত্যু হয়।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত মতিউলের স্ত্রী নারজিনা বেগম বাদী হয়ে (০৩ এপ্রিল) নীলফামারী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৪)।ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামিসহ অন্যান্যরা আত্মগোপনে চলে যায়।

এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রেক্ষিতে আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব-১৩। এরই ধারাবহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ সিপিসি-২ নীলফামারী ক্যাম্প এবং র‌্যাব-১ সিপিএসসি গাজীপুর এর একটি যৌথ আভিযানিক দল (৩০ জুন) সন্ধ্যা ০৬ টার দিকে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন ইবনে সিনা ফার্মাসিটিক্যাল ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত হত্যা মামলার ৪নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি নীলফামারী জেলার সদর থানাধীন কিসামত দোগাছি হাজীপাড়া গ্রামের নবাব হোসেনের ছেলে স্বপন ইসলাম (৩৮)। ধৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ভূরুংগামারীতে পুলিশের অভিযানে লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন ডিসপ্লে জব্দ, গ্রেপ্তার ২

র‌্যাবের অভিযানে পরকীয়ার জেরে হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

Update Time : ১০:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

আবুল হোসেন বাবলুঃ

পরকীয়ার জেরে তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনককে গলা কেটে হত্যা মামলার এজাহারে উল্লেখিত একজন পলাতক আসামিকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

নিহতের স্ত্রীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের কিসামত দোগাছি গ্রামে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মতিউল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গত ০২ এপ্রিল গলা কেটে হত্যা করা হয়।নিহত মতিউল ইসলাম একই এলাকার হামিদ হোসেনের ছেলে। নিহত মতিউল ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তানের জনক। পরকীয়ার জেরে ওই ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত মতিউল ইসলাম একই এলাকার হামিদ হোসেনের ছেলে।

নিহতের স্ত্রীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায়, একই এলাকার একরামুল হকের স্ত্রী সাহেরা বানুর সাথে ভিকটিম মতিউলের প্রেম ছিল। প্রেমের একপর্যায়ে, মতিউল সাহেরাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে কিন্তু পরবর্তীতে সাহেরা বানু মতিউলকে তালাক দিয়ে তার প্রথম স্বামী একরামুলের কাছে ফিরে আসে। নিহত মতিউল ঢাকা থেকে নিজ গ্রামে ফিরে এসে সেখানে বসবাস করতে থাকেন। তবে ওই ঘটনার জের ধরে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় (০২ এপ্রিল) ২০২৬ বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে চায়ের দোকানে বসে সাহেরা বানুর ছেলে আলামিন (২৩) এর সঙ্গে মতিউলের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আলামিন তার হাতে থাকা তামাক কাটার ধারালো কাস্তে দিয়ে মতিউল ইসলামের গলায় আঘাত করে। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মতিউলের মৃত্যু হয়।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত মতিউলের স্ত্রী নারজিনা বেগম বাদী হয়ে (০৩ এপ্রিল) নীলফামারী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৪)।ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামিসহ অন্যান্যরা আত্মগোপনে চলে যায়।

এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রেক্ষিতে আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব-১৩। এরই ধারাবহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ সিপিসি-২ নীলফামারী ক্যাম্প এবং র‌্যাব-১ সিপিএসসি গাজীপুর এর একটি যৌথ আভিযানিক দল (৩০ জুন) সন্ধ্যা ০৬ টার দিকে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন ইবনে সিনা ফার্মাসিটিক্যাল ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত হত্যা মামলার ৪নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি নীলফামারী জেলার সদর থানাধীন কিসামত দোগাছি হাজীপাড়া গ্রামের নবাব হোসেনের ছেলে স্বপন ইসলাম (৩৮)। ধৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।