০৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ ও গাজীপুরে তিতাসের ব্যাপক অভিযান: শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ, লাখো টাকার জরিমানা আদায়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:২০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫
  • ৩০৩১ বার পঠিত হয়েছে

মো. শাহজাহান বাশার,

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকা, ১১ আগস্ট ২০২৫:
অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার (১০ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে একাধিক স্পটে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ, পাইপলাইন অপসারণ, সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, **নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনিজা খাতুনের নেতৃত্বে** মোট ৬টি স্পটে অভিযান চালানো হয়। এসময় *মেসার্স বন্ধন স্টিল ওয়ার্কস* নামে একটি রোলিং মিলে ২টি মোল্ডিং ভাট্টি ও একটি গ্যালভানাইজিং হিট ট্রিটমেন্ট ইউনিটে মোট ৭টি বার্নারের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৪,৬০০ ঘনফুট লোডে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ধরা পড়ে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উৎসমুখে কিলিং করা হয়। প্রতিষ্ঠানের মাসিক গ্যাস ব্যবহার ছিল প্রায় ৪৬,০৬০ ঘনমিটার, যার বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৪ হাজার ৮৩০ টাকা।

একই অভিযানে *হাবিবা বেকারি*তে ঘণ্টায় ৩০০ ঘনফুট লোডে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ধরা পড়ে। সংযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি উৎসমুখ কিলিং করা হয়। বেকারিটির মাসিক গ্যাস ব্যবহার ছিল প্রায় ২,১২০ ঘনমিটার, আনুমানিক মূল্য ৬৪ হাজার ৬৭১ টাকা।

এছাড়া, বৈধ ৪ ইঞ্চি বিতরণ লাইন থেকে গ্রাহক কর্তৃক অবৈধভাবে স্থাপিত ৩ ইঞ্চি ব্যাসের প্রায় ১,৫০০ ফুট পাইপলাইন অপসারণের চেষ্টা চালালে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে অভিযান আংশিকভাবে স্থগিত করা হয়। একইসাথে উত্তর ভূইগড়ে ১৩টি ডাবল বার্নারের মাধ্যমে আবাসিকে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

একই দিনে রূপগঞ্জের আতলাসপুর এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৩.৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আনুমানিক ২২০টি বাড়ির মধ্যে ১৬৫টি চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এসময় ১.৫ ইঞ্চি ব্যাসের ২৩০ ফুট পাইপ ও ৫০০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ জব্দ করা হয়।

আঞ্চলিক রাজস্ব বিভাগ-নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ৪টি স্পটে অভিযান চালিয়ে ৪ জন বৈধ আবাসিক গ্রাহকের ১৭টি ডাবল চুলা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং একজন শিল্প গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ২ কোটি ২২ লাখ ৮২ হাজার ৫৬০ টাকা বকেয়া আদায় করা হয়।

ভোর থেকে আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স বিভাগ-নারায়ণগঞ্জের বিশেষ টিম আড়াইহাজার এলাকায় অভিযান শুরু করে। সকাল ১১টায় *সুমি ট্রেডার্স এন্ড ডাইং* কারখানায় বাইপাস লাইনের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ধরা পড়ায় সংযোগ তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। *শওকত আলী টেক্সটাইল* ও *সালেহউদ্দিন সাইজিং ইউনিট* কর্তৃপক্ষকে নকশা বহির্ভূত অতিরিক্ত পয়েন্ট অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয় এবং *মেসার্স ইউসুফ আলী টেক্সটাইল*-এর অতিরিক্ত পয়েন্ট তাৎক্ষণিকভাবে কিল করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হানের নেতৃত্বে জয়দেবপুরের কাউলতিয়া ও মুসলিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ১,২০০ ফুট বিতরণ লাইনের শিল্প স্থাপনা ও প্রায় ১৫০টি দ্বিমুখী চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এসময় মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিতাস গ্যাস মোট ৬৩,৬৬৯টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৯৬টি শিল্প, ৩২২টি বাণিজ্যিক ও ৬৩,০৫১টি আবাসিক সংযোগ। এসময় ১,২০,৬১৪টি বার্নার ও ২৩৯ কিলোমিটার পাইপলাইন অপসারণ করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দর্শনার বারাদি সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১০ ভারতীয় নারী- পুরুষ ও শিশু আটক

নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ ও গাজীপুরে তিতাসের ব্যাপক অভিযান: শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ, লাখো টাকার জরিমানা আদায়

Update Time : ০৫:২০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫

মো. শাহজাহান বাশার,

স্টাফ রিপোর্টার

ঢাকা, ১১ আগস্ট ২০২৫:
অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার (১০ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে একাধিক স্পটে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ, পাইপলাইন অপসারণ, সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, **নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনিজা খাতুনের নেতৃত্বে** মোট ৬টি স্পটে অভিযান চালানো হয়। এসময় *মেসার্স বন্ধন স্টিল ওয়ার্কস* নামে একটি রোলিং মিলে ২টি মোল্ডিং ভাট্টি ও একটি গ্যালভানাইজিং হিট ট্রিটমেন্ট ইউনিটে মোট ৭টি বার্নারের মাধ্যমে ঘণ্টায় ৪,৬০০ ঘনফুট লোডে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ধরা পড়ে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উৎসমুখে কিলিং করা হয়। প্রতিষ্ঠানের মাসিক গ্যাস ব্যবহার ছিল প্রায় ৪৬,০৬০ ঘনমিটার, যার বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৪ হাজার ৮৩০ টাকা।

একই অভিযানে *হাবিবা বেকারি*তে ঘণ্টায় ৩০০ ঘনফুট লোডে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ধরা পড়ে। সংযোগ বিচ্ছিন্নের পাশাপাশি উৎসমুখ কিলিং করা হয়। বেকারিটির মাসিক গ্যাস ব্যবহার ছিল প্রায় ২,১২০ ঘনমিটার, আনুমানিক মূল্য ৬৪ হাজার ৬৭১ টাকা।

এছাড়া, বৈধ ৪ ইঞ্চি বিতরণ লাইন থেকে গ্রাহক কর্তৃক অবৈধভাবে স্থাপিত ৩ ইঞ্চি ব্যাসের প্রায় ১,৫০০ ফুট পাইপলাইন অপসারণের চেষ্টা চালালে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে অভিযান আংশিকভাবে স্থগিত করা হয়। একইসাথে উত্তর ভূইগড়ে ১৩টি ডাবল বার্নারের মাধ্যমে আবাসিকে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

একই দিনে রূপগঞ্জের আতলাসপুর এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৩.৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আনুমানিক ২২০টি বাড়ির মধ্যে ১৬৫টি চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এসময় ১.৫ ইঞ্চি ব্যাসের ২৩০ ফুট পাইপ ও ৫০০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ জব্দ করা হয়।

আঞ্চলিক রাজস্ব বিভাগ-নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ৪টি স্পটে অভিযান চালিয়ে ৪ জন বৈধ আবাসিক গ্রাহকের ১৭টি ডাবল চুলা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং একজন শিল্প গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ২ কোটি ২২ লাখ ৮২ হাজার ৫৬০ টাকা বকেয়া আদায় করা হয়।

ভোর থেকে আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স বিভাগ-নারায়ণগঞ্জের বিশেষ টিম আড়াইহাজার এলাকায় অভিযান শুরু করে। সকাল ১১টায় *সুমি ট্রেডার্স এন্ড ডাইং* কারখানায় বাইপাস লাইনের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ধরা পড়ায় সংযোগ তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। *শওকত আলী টেক্সটাইল* ও *সালেহউদ্দিন সাইজিং ইউনিট* কর্তৃপক্ষকে নকশা বহির্ভূত অতিরিক্ত পয়েন্ট অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয় এবং *মেসার্স ইউসুফ আলী টেক্সটাইল*-এর অতিরিক্ত পয়েন্ট তাৎক্ষণিকভাবে কিল করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হানের নেতৃত্বে জয়দেবপুরের কাউলতিয়া ও মুসলিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ১,২০০ ফুট বিতরণ লাইনের শিল্প স্থাপনা ও প্রায় ১৫০টি দ্বিমুখী চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এসময় মোট ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিতাস গ্যাস মোট ৬৩,৬৬৯টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৯৬টি শিল্প, ৩২২টি বাণিজ্যিক ও ৬৩,০৫১টি আবাসিক সংযোগ। এসময় ১,২০,৬১৪টি বার্নার ও ২৩৯ কিলোমিটার পাইপলাইন অপসারণ করা হয়েছে।