গণমাধ্যম একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সমাজের অসঙ্গতি, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় জনগণের সামনে তুলে ধরাই একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি কোনো সাংবাদিক হামলার শিকার হন, তবে তা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং আইনের শাসনের ওপরও আঘাত।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নে টিআর/কাবিখা প্রকল্পের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক রিয়াজুল ইসলাম রুহীর ওপর হামলার অভিযোগ গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও তদন্তের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কিন্তু কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকার আইনি ও সাংবিধানিক পথেই হওয়া উচিত। সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা হামলা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

একজন সাংবাদিকের হাতে থাকা ক্যামেরা, মোবাইল ফোন কিংবা নথিপত্র শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; অনেক সময় এগুলো জনস্বার্থে সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণেরও বাহক। তাই সাংবাদিকের ওপর হামলা বা তার ব্যবহৃত সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।

আমরা বিশ্বাস করি, সত্য অনুসন্ধান কোনো অপরাধ নয়। বরং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক যদি হয়রানি, হুমকি বা হামলার শিকার হন, তবে তা শুধু একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না; বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকেও হুমকির মুখে ফেলে।

আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাই, এ ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলে সেটিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত। কারণ ন্যায়বিচার মানে শুধু অপরাধীর শাস্তি নয়, সত্যের প্রতিষ্ঠাও।

সত্যকে ভয় দেখিয়ে থামিয়ে রাখা যায় না। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা কখনো সহজ পথ ছিল না, আজও নয়। তবু সমাজ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে সত্য অনুসন্ধানের এই দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।