মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) দীর্ঘদিন ধরেই শান্তি, সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য জনপদ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য, সামাজিক বৈচিত্র্য কিংবা আদর্শগত ভিন্নতা কখনোই এ অঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেনি। বরং ভিন্ন মত ও পথের মানুষও পরস্পরের প্রতি সম্মান, সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার বন্ধনে আবদ্ধ থেকে এই জনপদের সামাজিক ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করেছেন।

এই ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে এক বিবৃতিতে কবি, লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, পেশাজীবী নেতা ও কুমিল্লার কৃতী সন্তান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী খান চৌধুরী মানিক বলেন, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া কেবল দুটি উপজেলা নয়; এ দুটি জনপদ একই ইতিহাস, একই সংস্কৃতি এবং একই আবেগে গড়ে ওঠা দুই যমজ ভূখণ্ড। এখানকার মানুষের পরিচয় দলীয় পরিচয়ের আগে—তারা সবাই এই মাটির সন্তান।

তিনি প্রশাসনের প্রতি বিনীত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইন সবার জন্য সমান। কেউ অপরাধ করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন মিথ্যা, কল্পিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মাধ্যমে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দিতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই সমাজে শান্তি ও মানুষের আস্থা সুদৃঢ় হয়।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষ চিরকালই শান্তিপ্রিয়। কে কোন রাজনৈতিক দল করেন, কোন মতাদর্শে বিশ্বাস করেন কিংবা কোন সামাজিক অবস্থানে আছেন—এসব কখনোই পারস্পরিক সম্পর্কের অন্তরায় হওয়া উচিত নয়। বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক আমাদের শক্তি; প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসাই হোক আমাদের পরিচয়।

বুড়িচংয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জনশ্রুতি রয়েছে যে চৈনিক শব্দ “বুদ্দীছিয়াং” থেকেই “বুড়িচং” নামের উৎপত্তি। একসময় এই অঞ্চল জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিংবদন্তি অনুসারে, চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং-ও এ অঞ্চলে আগমন করেছিলেন বলে প্রচলিত রয়েছে। ফলে বুড়িচং কেবল একটি ভৌগোলিক নাম নয়; এটি ইতিহাস, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক গর্বিত ঐতিহ্যের ধারক।

তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন, যাঁদের নেতৃত্ব, ত্যাগ ও অবদানে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় শান্তি, উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মোহাম্মদ ইউনুস, সাবেক সংসদ সদস্য প্রফেসর মো. মফিজুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. আমীর হোসেন, বর্তমান সংসদ সদস্য মো. জসীম উদ্দিন, পাশাপাশি বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এই জনপদের সর্বস্তরের গর্বিত নাগরিকদের প্রতিও তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান।

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী খান চৌধুরী মানিক বলেন, আজ সময় এসেছে সব ধরনের বিভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার। বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে এ জনপদ আরও এগিয়ে যাবে।

তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন—দল, মত, পথ ও ব্যক্তিগত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে হাতে হাত রেখে আমাদের প্রিয় বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়াকে শান্তি, সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য জনপদ হিসেবে গড়ে তুলি। আমরা সবাই একই মায়ের পেটের যমজ সন্তানের মতো—একই মাটির মানুষ, একই স্বপ্নের পথযাত্রী।

স্লোগান শান্তির বন্ধন, সম্প্রীতির অঙ্গীকার—বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া হোক ভালোবাসার এক পরিবার।একসাথে থাকি, একসাথে চলি—শান্তির নীড় গড়ি বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায়।”

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী খান চৌধুরী মানিক (কবি, লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পেশাজীবী নেতা)