মোঃ শাহজাহান বাশার
কারবালার ঘটনা সেই শিক্ষাই দেয়, ক্ষমতা বা পার্থিব স্বার্থের চেয়ে সত্য ও ন্যায়ের মূল্য অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের পীর সাহেব ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি-এর চেয়ারম্যান হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী।

শুক্রবার (২৬ জুন) ১০ মহররম, রাতে ঢাকা সাভার, আশুলিয়া, কাঠগড়া এলাকায় মরহুম হানিফ সরকারের বাসভবন সংলগ্ন ময়দানে ময়দানে আয়োজিত বাৎসরিক ওয়াজ ও মিলাদ মাহ্ফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর সঙ্গীরা সত্য, ন্যায় ও ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। কারবালার ঘটনা কেবল একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় নয়; এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সত্যের প্রতি অবিচলতা এবং আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বর্তমান সমাজে কারবালার শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে নৈতিকতা, মানবতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’

তিনি আরো বলেন, ‘কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর সাথীরা সত্য ও ন্যায়ের পতাকা সমুন্নত রাখতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগ যুগে যুগে মুসলমানদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষমতা বা পার্থিব স্বার্থের চেয়ে সত্য ও ন্যায়ের মূল্য অনেক বেশি—কারবালার ঘটনা সেই শিক্ষাই দেয়। আলোচনায় তিনি বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, অন্যায় ও বিভেদের বিরুদ্ধে কারবালার আদর্শ ধারণ করার আহ্বান জানান। তিনি তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও আদর্শিক জীবনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।’

সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘কারবালার ঘটনা মুসলিম উম্মাহর জন্য শুধু শোকের নয়, বরং শিক্ষা ও প্রেরণারও উৎস। ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়ে সত্য ও ন্যায়ের বিজয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ আজও বিশ্ব মানবতাকে সাহস, ধৈর্য ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা দেয়।
মাহফিলে উপস্থিত বক্তারা সমাজে ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কারবালার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে কারবালার প্রকৃত ইতিহাস জানাতে পারলে একটি আদর্শিক ও নৈতিক সমাজ গঠন সহজ হবে।’

মাহ্ফিলে আলোচক ছিলেন, মাওলানা মোখলেছুর রহমান বাঙ্গালী, মাওলানা মুফতি বাকিবিল্লাহ আজহারী, মাওলানা শেখ সাদি আব্দুল্লাহ্ সাধকপুরী।

মিলাদ ক্বিয়াম পরিবেশন করেন, মইনীয়া যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাফেজ ক্বারী মাওলানা মোহাম্মদ কেরামত আলী।

খলিফা শাহ্ মোহাম্মদ তাইজ উদ্দীন সরকার মাইজভাণ্ডারীর সভাপতিত্বে মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন, খ্যাতিমান ওলামা মাশায়েখ, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মনজিলের খলিফাবৃন্দ, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের সদস্যবৃন্দ, আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া ও মইনীয়া যুব ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এসময় সাংবাদিক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

মিলাদ কিয়াম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী মাইজভাণ্ডারী।