মোঃ শাহজাহান বাশার
শিক্ষা বিস্তার, মানবিক সমাজ গঠন এবং প্রজন্মকে আলোকিত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘কবি নজরুল স্মারক সম্মাননা-২০২৬’ পেলেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও আমেরিকা প্রবাসী সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী।

‎মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যকলা কেন্দ্রের সেমিনার হলরুমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পূবের হাওয়া’ ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পরিষদ।

‎অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। বিচারপতি সিকদার মকবুল হকের সভাপতিত্বে এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পরিষদের মহাসচিব মিলন মল্লিকের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দীন স্টালিন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। প্রধান আলোচক ছিলেন একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া।

‎অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষা। আর সেই শিক্ষার আলো গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে দিতে যেসব মানুষ নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন, মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী তাদের অন্যতম। প্রবাসে দীর্ঘদিন অবস্থান করেও তিনি নিজের জন্মভূমিকে ভুলে যাননি; বরং শিক্ষা ও মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

‎সম্মাননা গ্রহণ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বলেন,
‎“এই সম্মাননা শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন। আমি বিশ্বাস করি, একটি শিক্ষিত প্রজন্মই পারে একটি উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে। যতদিন বেঁচে থাকব, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।”

‎জানা যায়, দীর্ঘ ৪৪ বছরের প্রবাসজীবনে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দেশের শিক্ষা খাতে ব্যয় করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় তার প্রতিষ্ঠিত একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ এলাকার হাজারো শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করেছে। এর মধ্যে ‘মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী ডিগ্রি (বিশ্ববিদ্যালয়) কলেজ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

‎স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, একজন প্রবাসীর এমন মহৎ উদ্যোগ শুধু ব্রাহ্মণপাড়াই নয়, পুরো দেশের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ব্যক্তিগত সাফল্যকে সমাজের কল্যাণে কাজে লাগিয়ে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী প্রমাণ করেছেন—দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলে দূর প্রবাস থেকেও মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়া সম্ভব।

‎শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবকল্যাণে তার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।