আবুল হোসেন বাবলুঃ
র্যাব-১৩’র অভিযানে গাইবান্ধার বল্লমঝাড়ে শিশু কুলসুম হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার।রেজিনা বেগম বয়স ৪৯, মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার ১১ বছর বয়সী মেয়ে কুলসুম বল্লমঝাড় সর্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বাদীর দায়ের করা এজাহারের বরাত দিয়ে জানানো হয়, শিশু কুলসুম বিভিন্ন সময় অন্যদের ভয় দেখানোর জন্য কবরস্থানে লুকিয়ে থাকা, গাছের ডালে বসে থাকা, বাড়ির পাশে ডোবার পানিতে অস্বাভাবিক ভাবে গোসল করতো।
গত বছরের ২৪ নভেম্বর শয়নকক্ষের বাঁশের ধরনার সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় কুলসুমকে দেখতে পায় সজনরা। খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। এই ঘটনায় গত ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর গাইবান্ধা সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়।
নিহতের পরিবার ও মামলা সুত্রে জনা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামি ভিকটিমের প্রতিবেশী, সে প্রায়দিনই কুলসুমদের বাড়িতে যাতায়াত করতো এবং ভিকটিমকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি উত্যক্ত করতো।
ময়না তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ পেলে জানা যায় যে, কুলসুমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীতে গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখ রাতে কুলসুমের মা রেজিনা বেগম বাদী হয়ে পেনাল কোড আইনের ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-১৭। বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হলে লোমহর্ষক হত্যাকান্ডটি এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। থানায় মামলার প্রেক্ষিতে আসামি গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ এর সিপিসি-৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের আভিযানিক একটি দল (১৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে গাইবান্ধার সদর থানাধীন খামার বল্লমঝাড় গ্রামে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত মামলার পলাতক প্রধান আসামির নিজ বাড়ী থেকে মামলা রুজুর ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব-১৩।
গ্রেফতারকৃত আসামি গাইবান্ধা জেলার সদর থানার অন্তর্ভুক্ত খামার বল্লমঝাড় গ্রামের জহুরুল ইসলাম শেখ এর ছেলে ইব্রাহিম হাসান লিমন শেখ (২১)। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।