মোঃ শাহজাহান বাশার

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের ২৪নং ওয়ার্ডের সুপরিচিত সংগঠক, তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মী মোঃ তাছিবুর রহমান শান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি গ্রহণ করেছেন।

সম্প্রতি তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহবায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর লিখিত আবেদনপত্রের মাধ্যমে তার এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কিছু জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে গত ০৮-০২-২০২৬ ইং তারিখ হতে তার পক্ষে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত ভদ্র, শান্তস্বভাব, দায়িত্বশীল ও সংগঠনমুখী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত তাছিবুর রহমান শান্ত দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন। দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক সমন্বয়, নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য ও আস্থাভাজন কর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

নিজের বক্তব্যে তাছিবুর রহমান শান্ত বলেন,
“আমি দুঃসময়েও দলকে ভালোবেসেছি। দল আমাকে অনেক সম্মান ও মূল্যায়ন করেছে। আমি কখনো দলের নাম ব্যবহার করে অন্যায়, অনিয়ম বা দুর্নীতির মতো কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হইনি। সবসময় চেষ্টা করেছি নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করতে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি আমার আদর্শ ও নৈতিকতাকে আগলে রাখতে পেরেছি, ততক্ষণ পর্যন্ত দলের সকল দিকনির্দেশনা মেনে চলেছি।”
তিনি আরও বলেন,
“আইন আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। আমাদের সমাজে বহুমাত্রিক সমস্যা রয়েছে। আমি মনে করি, আগে আমাদের নিজেদের ঠিক হতে হবে, তাহলেই সমাজ ও রাষ্ট্র ঠিক হবে। দেশ পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে নিজেকে ভেতরে ও বাইরে থেকে পরিবর্তন করতে হবে। আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতার চর্চা ছাড়া প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়।”
রাজনীতির প্রতি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“আমি সবসময় দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলাম। সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দের জায়গা। সুসময়ে নেতা হওয়ার চেয়ে দুঃসময়ে দলের একজন আদর্শিক কর্মী হয়ে পাশে থাকা অনেক বেশি গর্ব ও আনন্দের। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি একজন নীতিবান ও আদর্শিক কর্মী হিসেবে দলের জন্য কাজ করতে।”
তিনি আরও বলেন,
“বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে মানসিকভাবে পরিবর্তন ও পরিবারকে সময় দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছি। সেই চিন্তা থেকেই আমি স্বেচ্ছায় সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে দলের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা সবসময় অটুট থাকবে।”
বিশেষ করে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের রাজনীতিতে কাজ করার সময় তাকে মূল্যায়ন, দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য জনাব সাইফুল আলম নীরব ভাই, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির ভাই এবং নজরুল ইসলাম রিপন ভাইয়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“বড় ভাইদের স্নেহ, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা আমি সারাজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবো। তাদের আন্তরিকতা আমাকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”

এদিকে তার এই স্বেচ্ছায় অব্যাহতির সংবাদে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার রাজনৈতিক ভদ্রতা, সততা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানবিক আচরণের প্রশংসা করেছেন। নেতাকর্মীদের মতে, তাছিবুর রহমান শান্ত সবসময় দলীয় শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ, নৈতিক রাজনীতি ও আদর্শিক অবস্থানকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মীর উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

তাছিবুর রহমান শান্ত সকলের উদ্দেশ্যে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তার এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে কেউ যেন ভুলভাবে ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন না করেন। এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তি ও পারিবারিক বাস্তবতার কারণে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ বা সাংগঠনিক মতবিরোধের সম্পর্ক নেই।

উল্লেখ্য, মোঃ তাছিবুর রহমান শান্ত যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০২২ সালে ২৪নং ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য, ২০১৮ সালে ২৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এবং ২০১৭ সালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা যুবদলের সাবেক সহ-যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি একজন সৎ, কর্মীবান্ধব, পরিশ্রমী, আদর্শিক ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তার এই সিদ্ধান্তে অনেক নেতাকর্মী আবেগাপ্লুত হলেও সবাই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন এবং তার সুস্বাস্থ্য, মানসিক প্রশান্তি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।