আবুল হোসেন বাবলুঃ

বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রায় ১৭ বছর আগে ভিকটিম ববিতা বেগমের সাথে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর থানার অন্তর্ভুক্ত চক ভগবানপুর গ্রামের মৃত সাকি মোল্লার ছেলে হারুন মোল্লার ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়।

ববিতা বেগমের স্বামী হারুন মোল্লা পরিবার নিয়ে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো। বেশ কিছুদিন যাবৎ স্বামীর সাথে ববিতা বেগমের পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলে আসছিল।

এরই একপর্যায়ে গত ২৪ মার্চ ববিতা বেগম তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। সেখানেই থাকা অবস্থায় ২৭ মার্চ স্বামী হারুন এবং জনৈক আশরাফুল মিলে ববিতাকে বাবার বাড়ি থেকে ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে। এর ৪ দিন পর ২৮ মার্চ ববিতার মা লোকমুখে জানতে পারেন, তার মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

খবর পেয়ে ববিতার মা তাৎক্ষণিক ববিতার বাসায় গিয়ে দেখতে পায়, ববিতার গলাকাটা লাশ খাটের উপর পড়ে আছে। পরবর্তীতে ববিতার মা বাদী হয়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-২৫। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক হত্যাকান্ড হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রেক্ষিতে আসামিদের গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩ সিপিসি-৩ ক্যাম্প গাইবান্ধা এবং র‌্যাব-১ সিপিসি-৩ পূর্বাচল ক্যাম্প রূপগঞ্জ নারায়নগঞ্জ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল (০৫ মে) ২০২৬ আনুমানিক রাত ১২ টার দিকে ঢাকার জসীমউদ্দিন নামক এলাকায় অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত মামলার এজাহারনামীয় একজন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর থানাধীন চক ভগবানপুর গ্রামের মৃত সাকি মোল্লা এর ছেলে আনারুল মোল্লা (৩০)। পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।