মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের লাটুয়ার বাজারকে কেন্দ্র করে আবারও উঠে এসেছে অনিয়ম ও অবৈধ দখলের অভিযোগ। সরকারি কোনো অনুমোদন বা উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে বাজারটি পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে করে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকায় লাটুয়ার বাজারটি দ্রুত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। আশপাশের কংশনগর, নিমসার, কাবিলা ও ময়নামতি এলাকার ব্যবসায়ী ও খামারিরা নিয়মিত এখানে পশু নিয়ে আসেন। ফলে প্রতি হাটবারে বাজারে ব্যাপক লেনদেন হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো বৈধ কাগজপত্র বা সরকারি অনুমতি ছাড়াই একটি সিন্ডিকেট নিয়মিত গরু-ছাগলের হাট বসিয়ে খাজনা আদায় করছে। প্রতি গরুর জন্য ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা এবং ছাগলের ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে কয়েক ডজন গরু ও শতাধিক ছাগল বিক্রির জন্য আনা হয়েছে। এতে করে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ হাতবদল হচ্ছে। তবে এসব অর্থের কোনো অংশই সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বাজারটি অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে স্থায়ী অবকাঠামোর মতো সাইনবোর্ড ও পশু বাঁধার খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা বলছেন, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় প্রভাবশালীরা সুযোগ নিচ্ছে।
এ বিষয়ে ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, “লাটুয়ার বাজার সরকারি তালিকাভুক্ত নয়। তাই এটি বৈধ কোনো বাজার নয়। আমরা ইতোমধ্যে বাজারটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি।”
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, “নতুন বাংলা সনের শুরু থেকে বাজারটি চালুর চেষ্টা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে এসেছে, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ বাজার উচ্ছেদ করে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দরপত্রের মাধ্যমে বাজার পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।