আবুল হোসেন বাবলুঃ
শ্রী বাদল চন্দ্র বর্মন এবং শ্রী সপ্তম চন্দ্র বর্মন প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এরই জের ধরে বাদল চন্দ্রকে হত্যা করে সপ্তম চন্দ্র গং।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনার দিন গত ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর সকালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানাধীন কোড়াগাছা (হিন্দুপাড়া) গ্রামে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাদল চন্দ্র এর প্রতিবেশী শ্রী সপ্তম চন্দ্র বর্মন ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদল চন্দ্রের বাড়িতে ঢুকে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।
এ সময় বাদল চন্দ্র বর্মন (৪৩) এর মাথায় আঘাত করলে রক্তাক্ত জখম ও ঘটনাস্থলেই মুমূর্ষু অবস্থায় জ্ঞান হারায় বাদল চন্দ্র। পরবর্তীতে বাদী সাধন বর্মন এবং আত্মীয় স্বজন বাদল চন্দ্রকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রমেক) এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন বিকেল আনুমানিক পৌনে পাঁচটার দিকে বাদল চন্দ্র মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শ্রী সাধন বর্মন বাদী হয়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটা হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৩৫,তারিখ-২৭/১০/ ২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩০২ /১১৪/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০।
মর্মান্তিক এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এবং র্যাব-৮ সিপিসি-৩ মাদারীপুর এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ২৩ এপ্রিল বিকেলে মাদারীপুর জেলার সদর থানাধীন কানাগাছিরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত হত্যা মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ধৃত আসামি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানাধীন কোড়াগাছা (হিন্দুপাড়া) গ্রামের শ্রী কানাই লাল বর্মনের ছেলে শ্রী সপ্তম চন্দ্র বর্মন (২০)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, অপর একটি অভিযানে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জমিজমার বিরোধের জেরে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় একজন আসামিকে মানিকগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে জানানো হয়, প্রতিবেশী ফরিদ মন্ডল ও সাদ্দাম হোসেন পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো।
এরই জের ধরে গত ২২ মার্চ সন্ধ্যায় সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফরিদ মন্ডলের বাড়িতে ঢুকে জাজিয়ত আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে।
পরবর্তীতে বাদীর আত্মীয় স্বজন গুরুতর আহত অবস্থায় জাজিয়ত আলীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৮ মার্চ সকালে মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৫, তারিখ-২৩/০৩/ ২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- ১৪৩/৪৪৮/৪২৭/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬(২)/ ১১৪/৩৪/৩০২ পেনাল কোড- ১৮৬০।
মর্মান্তিক এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এবং র্যাব-৪ সিপিসি-৩ মানিকগঞ্জ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ২৩ এপ্রিল বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন জেটিআই ইন্টারন্যাশনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত মামলার ০৪নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানাধীন অনন্তপুর গ্রামের মুনু মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২০)। পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ধৃত আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।