মোঃ শাহজাহান বাশার

ঢাকা, ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ২০২৬:

দেশের জ্বালানি খাতকে সুরক্ষিত রাখা এবং অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রেখেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ২০ এপ্রিল (সোমবার) ২০২৬ তারিখে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার আষাঢ়িয়ার চর, মৃধাকান্দি ও পিরোজপুর এলাকায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজা’র নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে চারটি স্পটে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় ২টি চুনা কারখানা ও ২টি ঢালাই কারখানার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং প্রায় ১৫০ ফুট হোস পাইপ কেটে অপসারণ করা হয়। এতে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৬৯ হাজার টাকার গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

একই দিনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিমন সরকারের নেতৃত্বে মেট্রো ঢাকা বিক্রয় বিভাগ-১ এর আওতাধীন শহীদনগর, মাতুয়াইল মেডিকেল, আদর্শনগর, ফতুল্লা, রাজাখালী ও ডেমরা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানে সিফাত মোরব্বা ঘর ও হারুন মোরব্বা ঘরসহ ১৬টি বাড়ির প্রায় ৬০টি চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি স্টার বার্নার, করাই, রেগুলেটর, এমএস পাইপসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয় এবং মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।

অন্যদিকে তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক বিক্রয় ডিভিশন ময়মনসিংহ, জামালপুর ও কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আরও একটি বড় অভিযান পরিচালনা করে। এতে অবৈধ সংযোগ, অনুমোদনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং বকেয়া বিলের কারণে মোট ২৪টি আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, যার মধ্যে ৪৯টি ডাবল ও ৯টি সিঙ্গেল চুলার সংযোগ ছিল।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ গ্যাস ব্যবহার জাতীয় সম্পদের অপচয় ঘটায় এবং দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।

কর্তৃপক্ষ সকলকে বৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে অবৈধ সংযোগ সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে।