মোঃ শাহজাহান বাশার
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় আত্রাই নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের সেনগ্রাম এলাকার মাধবঘাটে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা গেছে, খানসামা উপজেলার ভাবকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম তুহিনের নির্দেশে দীর্ঘদিন ধরে আত্রাই নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন বীরগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপঙ্কর বর্মন।
অভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রেজারের চালক ও হেলপাররা মেশিন ফেলে পালিয়ে যায়। পরে কথিত ম্যানেজার সায়েমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ড্রেজারটি জব্দ করা হয়। এ সময় পাল্টাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তহিদুল ইসলাম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
জব্দকৃত ড্রেজারটি সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সোহেল রানার জিম্মায় রাখা হয়েছে। অভিযানে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আবুল কাশেম, বীরগঞ্জ থানা পুলিশ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অভিযোগে থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে পাল্টাপুর ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
গত ১৩ এপ্রিল টলেন চন্দ্র, টংক নাথ ও বিকাশ চন্দ্রসহ কয়েকজন এলাকাবাসী ভূমি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে বেআইনিভাবে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের ফলে নদীর উভয় তীরবর্তী বাড়িঘর, মসজিদ, মন্দির, রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট ও আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। পূর্বে সৃষ্ট গর্তে পড়ে নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও স্থানীয়রা তুলে ধরেছেন।
চলতি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে ইজারায় অংশগ্রহণ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ দরদাতা হতে পারেননি বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন বছরের কার্যাদেশ ছাড়াই ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম তুহিন মুঠোফোনে বলেন, “ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন হয়েছে। তবে সীমানা নির্ধারণের স্পষ্টতা না থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। আমার অজ্ঞাতসারে বীরগঞ্জ সীমানার কিছু অংশ থেকে বালু উত্তোলন হয়ে থাকতে পারে। এটি আইনপরিপন্থী হলে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকবো।”
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।