রংপুর ব্যুরোঃ
গত ৩ মার্চ ২০২৬ রাতে এলাকাবাসী দেশীয় অস্ত্রসহ এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী শাফায়েত হোসেন শামীম @ পিচ্চি শামীম (২৮)কে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এ সময় কৌশলে পালিয়ে যায় তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় রংপুর মহানগর তাজহাট থানায় মামলা হয়।
বুধবার ৮ এপ্রিল দুপুরে মামলার বাদী এসআই আরাফাত হোসেনের দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাদী গত ৩ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২ টা ০৫ মিনিট। মোবাইল ডিউটি করাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাদী জানতে পারেন, এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী শাফায়েত হোসেন শামীম @ পিচ্চি শামীম (২৮)কে তাজহাট থানাধীন ২৮নং ওয়ার্ডস্থ তাজহাট বক্ষব্যাধি (টিবি) হাসপাতাল রোডের জনৈক সাইদ মিয়ার রিকসা গ্যারেজের সামনে এলাকাবাসী আটক করে রেখেছে। এমতাবস্থায় শাফায়েত হোসেন @ পিচ্চি শামীমকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। শাফায়েতের নিকট হতে জানা যায় তার সাথে আরো ২/৩ জন ছিল যারা কৌশলে পালিয়ে গেছে।
পরবর্তীতে,এসআই আরাফাত নিজে বাদী হয়ে আটক শাফায়েত হোসেন শামীমকে প্রধান আসামি এবং ধৃত আসামি টোকাই জাবেদসহ ২ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গত ০৪ মার্চ অস্ত্র আইনের ১৯(চ) ধারায় রংপুর মহানগরের তাজহাট থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-০২।
ঘটনাটি আলোচিত হওয়ায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সদর কোম্পানী রংপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ০৬ এপ্রিল রাতে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানাধীন বৈরাগীহাট বাজারে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত মামলার আসামি পিচ্চি শামিমের একজন সহযোগীকে টোকাই জাবেদ কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত টোকাই জাবেদ (৩২) আরপিএমপি, রংপুর তাজহাট থানার মামলা নং- ০২/২৮, তাং- ০৪/০৩/২০২৬, ধারা: ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(চ) মূলে অস্ত্র মামলার পলাতক এজাহারনামীয় ৩নং আসামি। টোকাই জাবেদ রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্ভুক্ত ইসলামপুর (বাশিয়াপাড়া) গ্রামের মৃত হাসেম খান এর ছেলে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, আসামি জাবেদ ও তার সহযোগীরা এলাকার বিত্তশালী লোকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলো।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাব-১৩ এর এই ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।