মো: শান্ত খান সাভার প্রতিনিধি
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও ঢাকা জেলার সাবেক সদস্য সচিব সজিব রায়হানকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দেখতে চান অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক।
ছাত্রদল নেতা সজিব রায়হান বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায় ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি রাজপথে সরব ছিলেন। তিনি জানান, ছাত্রদের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন বা আঘাত এলে ছাত্রসমাজ তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।
তিনি আরও বলেন, “যদি আবারও আমার কোনো ভাইয়ের গায়ে আঘাত আসে বা নির্যাতন করা হয়, তাহলে ছাত্রসমাজ কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে। ছাত্রসমাজকে কখনো দমিয়ে রাখা যাবে না। আমাদের হাত থেকে যদি কলম কেড়ে নেওয়া হয়, আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হব।
ছাত্রদল নেতা সজিব রায়হান উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চারদিক থেকেই সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে ৪ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাভার উপজেলা ঘেরাও কর্মসূচির লক্ষ্যে সাভারমুখী ছাত্র-জনতার মিছিলে তিনি সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেন।
জানা যায়, আন্দোলনের সময় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি ছাত্রদের সক্রিয়ভাবে সংগঠিত করেছেন। নেতাকর্মীদের দাবি, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে দিন-রাত রাজপথে থেকে ছাত্রদের সাহস ও মনোবল জোগাতেন সজিব রায়হান। তিনি সবসময় নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করতেন যে আন্দোলনের বিজয় নিশ্চিত হবে।
ঝুঁকির মধ্যেও সাহসী নেতৃত্ব
সাভার থানা রোড, পাকিজা মোড়, মুক্তির মোড় এবং সাভার থানার সামনেসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও পুলিশের বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে ছাত্রদের নিয়ে সরাসরি আন্দোলন ও সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন সজিব রায়হান। স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে রাজপথে ছাত্রদের নিয়ে আন্দোলন চালিয়েছেন এবং আন্দোলনকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
জুলাই আন্দোলনের প্রেরণাদায়ক মুহূর্ত
ছাত্রদল নেতা সজিব রায়হান আন্দোলনের সময় ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের ছাত্রসমাজ কখনো নিরীহ নয়। আমরা স্বপ্ন দেখি মুক্ত বাংলাদেশ, যেখানে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে হবে না। রাজপথে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব, আমাদের হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আজ আমরা কলম হাতে নিলাম, আগামীকাল প্রয়োজনে প্রতিরোধও করব।
তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখিয়েছি যে একতাবদ্ধ ছাত্র সমাজে যে শক্তি রয়েছে তা কোনো বাধা ঠেকাতে পারে না। শাসকদল যতই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করুক, আমাদের সাহস ও একতা কখনো দমিয়ে রাখতে পারবে না।
নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করতে তিনি বলেন,
”আপনারা হাল ছাড়বেন না। প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি ধাপ, প্রতিটি আন্দোলন আমাদের বিজয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা রাজপথে থাকব, আমরা আমাদের অধিকার রক্ষা করব। আমরা জানি ঝুঁকি আছে, কিন্তু যখন আমাদের ভাই-বোনের নিরাপত্তা ও গণঅধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হয়, আমরা পিছিয়ে যাব না। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই আন্দোলনকে শক্তিশালী করছে। এই আন্দোলন শুধুই আমাদের আজকের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য। সত্য ও ন্যায়ের পথে লড়াই কখনো সহজ নয়, তবে আমরা কখনো থামব না।
ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীর মতে, দলের জন্য কঠিন সময়ে রাজপথে থেকে সংগ্রাম করা এবং ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে সজিব রায়হানকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চান তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা আন্দোলনে তার সক্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে সমর্থকেরা তুলে ধরছেন।
নেতাকর্মীরা বলেন, দলের দুঃসময়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ছাত্রদের পাশে থাকার জন্য সজিব রায়হান ইতোমধ্যে সবার আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন। তাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাকে দেখতে চান তারা।