ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে ৫/৬ ব্যক্তি পলিসি খোলার কথা বলে এক নারী এনজিও কর্মীকে ডেকে নিয়ে গনধর্ষণ মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত একজন আসামী র‌্যাবের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার।

বাদির দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিকটিম একজন নারী এনজিও কর্মী। কাজের সুবাদে অত্র মামলার আসামী আতিকুল ইসলাম (২৪) এর সাথে পরিচয়। ঘটনার দিন ২৮ জানুয়ারী ইন্সুরেন্স কোম্পানীতে ৫/৬ জন ব্যক্তি পলিসি করবে বলে ভিকটিমকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায় আতিকুল।

এরই প্রেক্ষিতে ২৮ জানুয়ারী দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে ভিকটিম স্থানীয় ডাঙ্গারবাজারে যায়। সেখান থেকে আসামীর সাথে চিরিরবন্দর থানাধীন ১নং নশরতপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত নশরতপুর ফকিরপাড়াগামী পাকা রাস্তা সংলগ্ন জনৈক উত্তম কুমারের ভুট্টাক্ষেতের পাশ দিয়ে কথিত গ্রাহকের বাড়িতে যাওয়ার সময় পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আগে থেকে ওৎপেতে থাকা অত্র মামলার সহযোগী আসামীগণ সহ জোরপূর্বক ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে প্রথমে গ্রেফতারকৃত আসামী আতিকুল ভিকটিমকে ধর্ষণ করে। এরপর পালাক্রমে সহযোগী আসামীরা গণধর্ষণ করে এবং গ্রেফতারকৃত আসামীর ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারন করে। এক পর্যায়ে ভিকটিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা ভিকটিমকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ৩০ জানুয়ারী ভিকটিম বাদী হয়ে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) তৎসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইন ২০১২ এর ৮(১)/৮(২)/৮(৭) ধারায় একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২২/২৫ ।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামীগণ আত্মগোপনে ছিলো।

আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র‍্যাব। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১৩ সিপিসি-১ দিনাজপুর এবং র‌্যাব-১০ সদর কোম্পানী কেরানীগঞ্জ ক্যাম্প এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ২৬ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৩টায় ঢাকার বংশাল থানাধীন গুলিস্তান কাপ্তান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অত্র মামলার এজাহার নামীয় আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানার অন্তর্ভুক্ত নরশতপুর (মাছুয়াপাড়া) গ্রামের কানু চন্দ্র রায় এর ছেলে বিশ্বনাথ রায় (২৬)। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।