রংপুর ব্যুরোঃ

নাবালিকা প্রমানের ভুয়া জন্ম সনদ দিয়ে উদ্দেশ্যমুলক অপহরণ দেখিয়ে এজাহার দায়ের করে মেয়ের মা। ওই এজাহার মুলে কোন রকম তদন্ত ছাড়াই মামলা আমলে নিয়ে অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেফতার করে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা পুলিশ। নিরপরাধ অভিযুক্ত স্বামীর হলো হাজতবাস।

রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার অন্তর্ভুক্ত ৩০নং ওয়ার্ড পুর্ব খাসবাগ এলাকায় বসবাসকারী রুনা লায়লা, ঘটনার দিন ৩ ফেব্রুয়ারী/২০২৬ইং। রুনা লায়লা তার মেয়ে মোহসিনা আক্তার নিখোঁজ মর্মে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগে ভূয়া জন্ম সনদ অনুযায়ী মোহসিনাকে নাবালিকা উল্লেখ করে পুর্ব পরিচিত আহসান হাবিব রোমিও নামে একজনকে অপহরণকারী দেখিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় এজাহার দায়ের করেন। কোন রকম তদন্ত ছাড়াই মামলাটি আমলে নেয় কোতোয়ালি থানা পুলিশ। যার মামলা নং-জিআর -০৩/২৬ তারিখ-০৩/০২/২৬ইং।

গ্রেফতারের পর ভিকটিম মোহসিনা খাতুন গত ৮ ফেব্রয়ারি ২০২৬ তরিখ রংপুর নারী শিশু আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাশেদ হোসেনের এজলাসে লিখিত জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন যে, গত ২ ফেব্রয়ারি ২৬ইং তারিখে লিখিত কাবিননামা মুলে আহসান হাবিব রোমিওর সাথে তার বিয়ে হয়েছে। রোমিও তার বৈধ স্বামী এবং রোমিও তাকে অপহরণও করেনি।

বাদীনি রুনা লায়লা তার মেয়ের প্রকৃত জন্ম তারিখ আড়াল করে, রংপুর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক দেয়া জন্মনিবন্ধনে জন্ম তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর-২০০৭ এর জায়গায় ২০১০ বসিয়েছেন। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের দেয়া জন্মনিবন্ধনে ২০০৭ সালের তথ্য অনুযায়ী মোহসিনা আক্তার মোটেও নাবালিকা নয়। উল্লেখ্য ২২ জানুয়ারি ২০২৬ইং আহসান হাবিব রোমিও এবং মোহসিনা আক্তার উভয় পরিবারের অজান্তে রংপুর নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এফিডেভিট মুলে দুজন দুজনকে বিয়ে করে।

মোহসিনার জবানবন্দিতে আরো একটি লিখিত আছে যে, বাদীনি রুনা লায়লা পরিবারের সাথে আহসান হাবিব রোমিও দীর্ঘ পাঁচ বছরের পরিচিত। তবে মোহসিনা ও রোমিও’র ভালবাসা দীর্ঘদিনের না হলেও এখন তারা স্বামী-স্ত্রী। মোহসিনা খাতুনের এই জবানবন্দি প্রমাণ করে আনিত মামলা সম্পূর্ণ রুপে মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত।

রোমিওর পরিবার জানায় আর্থিক ফাঁয়দা নিতে রোমিও’র তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী রীপা কিছু অসাধু মানুষের সহযোগিতায়, রুনা লায়লাদের ইন্ধন দিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অপহরণের নাটকটি ভাইরালের অপচেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহজাহান আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও অনেকটা বিভ্রান্ত। প্রাথমিক ভাবে বাদীনি রুনা লায়লা একটি সাধারণ ডাইরি করে।পরে যেহেতু ভিকটিমকে নাবালিকা প্রমাণের জন্মনিবন্ধন সনদ সাপেক্ষে অভিযোগ দায়ের করেন, সে কারনে আমরা মামলাটি গ্রহণ করি। নাবালিকা প্রমানের জন্মসনদ ভূয়া কিনা খতিয়ে দেখা হবে। ভূয়া প্রমাণ পেলে সেভাবেই চার্জশিট প্রদান করা হবে এবং বাদিনীর মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

ভুক্তভোগী আহসান হাবিব রোমিওর পরিবার জানায়, রুনা লায়লাদের এমন কর্মকাণ্ডে তারা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছেলের মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে পাঠানোয় রোমিওর বাবা অসুস্থ হয়ে বাড়িতে শয্যাশায়ী আছেন।