ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে জামাতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও তাদের জোটের প্রার্থী। রাজনৈতিক পালাবদলে এখন জাতীয় পার্টির দুর্গ জামায়াতের দখলে। দীর্ঘদিন পর এ অঞ্চলে এবার একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) ভোরে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান।রংপুরের ৬টি আসনের পাঁচটিতে জামায়াত ও একটিতে জোটসঙ্গী এনসিপি বিজয়ী হয়েছে।
রংপুরের ছয়টি আসনেই জামায়াত জোট প্রার্থীদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বিএনপি’র প্রার্থীর সঙ্গে এবং ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে তারা জয়লাভ করেন। পাঁচটি আসনে সরাসরি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী, একটি আসনে জামায়াত জোটের শরিক এনপিপির প্রার্থী জয়ী হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রংপুরে তাদের উত্থান নিশ্চিত করেছে দলটি।
রংপুর-১ আসন গঙ্গাচড়া (আংশিক সিটি কর্পোরেশন) বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রংপুর মহানগর জামায়তের সহকারী সেক্রেটারি রায়হান সিরাজী (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২৪৫ ভোটে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোকারম হোসেন সুজন (ধানের শীষ) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৬৯ হাজার ১৩১। এটিএম গোলাম মোস্তফা (হাতপাখা) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৩২৫। দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় এই আসনে জাপার প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ১৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসব কেন্দ্রে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৭। এর মধ্যে বৈধ ২ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ ভোট ও বাতিলকৃত ভোট ৫ হাজার ৩১৩। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৬০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬,। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার (ধানের শীষ) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৯৩০ ভোট।
রংপুর-৩ (সদর-সিটি কর্পোরেশন) আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সামসুজ্জামান সামু (ধানের শীষ) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৯৮,। এ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের (লাঙ্গল) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৯০ ।
রংপুর-৪ কাউনিয়া পীরগাছা আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি’র আখতার হোসেন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি (শাপলা কলি) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬,। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪।
রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনে জামাত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন -১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ।
রংপুর-৬ পীরগঞ্জ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। প্রতীক (দাঁড়িপাল্লা) ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (ধানের শীষ)ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩,। এ আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৭ ভোট।
রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, রংপুরের ৬ সংসদীয় আসনে মোট ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন ভোটার ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে এ নির্বাচনে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।