আবুল হোসেন বাবলুঃ
র্যাবের অভিযানে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জে নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যা (ক্লুলেস হত্যা) মামলার পলাতক আসামী খুলনা থেকে গ্রেফতার।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব-১৩’র অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১২ ডিসেম্বর’২৬ রাতে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানাধীন চৌপুকুরিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় দানিউল ইসলাম (৫৬) কে গলা কেটে হত্যা করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।
পরদিন সকালে বাদীর স্বামীর ধর্ম বোন মোছাঃ নূর জাহান বেগম এবং তার স্বামী রফিকুল ইসলাম বাড়িতে ঢুকে দেখেন, দানিউল ইসলামের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় তাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে আশপাশের লোকজন এসে দেখেন, ভিকটিমের শয়ন কক্ষে খাটের ওপর দানিউল ইসলামের গলাকাটা মরদেহ খাটের ওপর পড়ে আছে। উল্লেখ্য যে, নূর জাহান বেগম ও তার স্বামী রফিকুল ইসলাম দানিউলকে দেখাশোনা করতেন। তরা জানান, রাতে খাবার খেয়ে দানিউল ঘুমিয়ে পড়লে তারা বাড়িতে চলে যান। সকাল সাড়ে দশটার দিকে এসে গলাকাটা রক্তাক্ত অবস্থায় দানিউল ইসলামের নিথর দেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে বীরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১২, তারিখ- ১৩/১২/২০২৫ ইং। মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক, লোমহর্ষক হত্যাকান্ড হওয়ায় বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ জানুয়ারী র্যাব-১৩ সিপিসি-১ দিনাজপুর এবং র্যাব-৬ সিপিএসসি খুলনা ক্যাম্পের
একটি যৌথ আভিযানিক দল খুলনা জেলার রূপসা থানার রূপসা সেতুর টোলপ্লাজা সংলগ্ন সাথী বেগমের চায়ের দোকান থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন উৎকুল গ্রামের মোতালেব শেখ এর ছেলে আবু বক্কর @ বাদশা। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।