মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রার্থী ও দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি দাবি করেছেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত মিলছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “প্রশাসনের দ্বিচারিতামূলক আচরণে আমরা উদ্বিগ্ন। নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আমাদের গভীর শঙ্কা রয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী একজন ব্যাংক ঋণখেলাপি হলেও তার হলফনামায় সেই তথ্য গোপন করা হয়েছে। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে তা পরিশোধ না করা এবং সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ গোপন করাও নির্বাচনী বিধিমালার লঙ্ঘন।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “নির্বাচনী বিধিমালায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ আছে—যদি কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন, তাহলে তার মনোনয়ন বাতিলযোগ্য। আমরা প্রশাসনের কাছে যথাযথ তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। কিন্তু এরপরও প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার আইনজীবী বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ উত্থাপন করলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ত্রিশ মিনিট ধরে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
পরবর্তীতে রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান পরিস্থিতি শান্ত করে উভয় পক্ষকে নিয়ম অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ দায়েরের নির্দেশ দেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুই প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়।