মোঃ শাহজাহান বাশার,
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ১নং রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদে জনসেবা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মামলাজনিত কারণে পলাতক থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা, ভূমি সংক্রান্ত সেবা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্র ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ইউপি সদস্যরা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার অভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না।
ইউপি সচিব জামাল হোসাইন জানান, চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হলে অন্তত জনগণের সেবা কিছুটা স্বাভাবিক রাখা যেত।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে গেলেই শুধু হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এক ভুক্তভোগী বলেন, “প্রায় ১৫ দিন ধরে জন্মনিবন্ধনের জন্য পরিষদে যাচ্ছি, কিন্তু প্রতিবারই বলা হচ্ছে চেয়ারম্যান নেই।”
আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, “ওয়ারিশ সনদের জন্য গিয়েছিলাম, কিন্তু চেয়ারম্যান না থাকায় কোনো কাজই হচ্ছে না।”
এদিকে জানা গেছে, চেয়ারম্যান আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য একত্রিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সাধারণ ক্ষমার ভিত্তিতে মীমাংসা করা হয়।
তবে ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান বর্তমানে পলাতক থাকলেও আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীদের মাধ্যমে কাবিখা, টিআরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সেবা বন্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সুবিধা পাচ্ছে—এমন অভিযোগও তুলেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন—চেয়ারম্যান পলাতক থাকলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম কেন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে? জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কেন বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না?
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন,
“ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত এলে আমরা আইনগতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা অবিলম্বে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগসহ কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।