মোঃ শাহজাহান বাশার

১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫। আজ মহান বিজয় দিবস-২০২৫। ৫৫তম এই বিজয় দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে চির অম্লান এক স্মরণীয় দিন। হাজার বছরের শৌর্যবীর্য, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে ১৯৭১ সালের ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালি জাতি এই দিনে স্বাধীনতা অর্জন করে। মহান বিজয় দিবস কেবল উদযাপন নয়, এটি জাতীয় গৌরব, মুক্তির জন্য লড়াই করা শহীদদের আত্মত্যাগের স্মারক, এবং বীর জাতি হিসেবে আমাদের জাতীয় চেতনার প্রকাশ।

এ উপলক্ষে কুমিল্লা জেলা পুলিশ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে টাউন হল মাঠে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম। তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সকল পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন যে, দেশের জন্য আত্মত্যাগের মূল্য অমুল্য এবং তা সর্বদা স্মরণীয় রাখা উচিত।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব রাশেদুল হক চৌধুরী (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব পংকজ বড়ুয়া (ক্রাইম এন্ড অপস্), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব সাইফুল মালিক (সদর সার্কেল) এবং জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। তারা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং বীর শহীদদের স্মৃতিকে চির অম্লান রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান চলাকালীন জেলা পুলিশের কর্মকর্তা ও কর্মীরা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় আমাদের স্বাধীনতার স্বীকৃতি। এই দিনটি জাতিকে একত্রিত করে, আমাদের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির সঙ্গে আবদ্ধ রাখে। সকল পুলিশ সদস্য ও নাগরিকদের উচিত এই মহান ত্যাগ ও বীরত্বের চেতনা স্মরণ করে নিজেদের দায়িত্ব পালনে সর্বদা সচেষ্ট থাকা।”

বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠান কেবল স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি নতুন প্রজন্মকে জাতীয় ইতিহাস জানাতে এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা সঞ্চার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেলা পুলিশ এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা অনুষ্ঠান শেষে স্বাধীনতার মহান অর্জনকে স্মরণ করে বীর শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

কুমিল্লা জেলায় মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানগুলি প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করা শহীদদের প্রতি সম্মান, শৃঙ্খলাপূর্ণ উদযাপন ও আনন্দের পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এভাবে শহীদদের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে নতুন প্রজন্মও দেশের জন্য আত্মত্যাগের গুরুত্ব উপলব্ধি করছে।