মোঃ শাহজাহান বাশার

বাংলাদেশের দরবারি ইতিহাসে এমন ব্যক্তিত্ব খুব কমই আছেন, যাকে ঘিরে কোটি মানুষের বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও আস্থার সমন্বয়ে এক মহাসমুদ্র তৈরি হয়েছে। তিনি শুধু একটি দরবারের প্রতিনিধি নন—তিনি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দরবারের গৌরবময় মুখ, যার শাজরা দিক দিয়ে একসঙ্গে বহন করছেন হাসানীহুসাইনী পবিত্র রক্তধারা। দু’নবী–দুই ইমাম–দুই রাহবারের নূর তাঁর দেহে দ্যুতি ছড়াচ্ছে। তিনি সময়ের সেরা সুফি ব্যক্তিত্বদের একজন; আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যার গ্রহণযোগ্যতা, সম্মান ও মর্যাদা আকাশচুম্বী।

এই সময়টি এমন একটি ক্রান্তিলগ্ন—যখন সুন্নীয়ত নানা মতের বিভাজন, অভ্যন্তরীণ মতভেদ ও সংগঠনগত দুর্বলতায় টুকরো টুকরো হয়ে পড়েছিল। বহু মুরব্বি, বহু উদ্যোগ, বহু আলোচনার পরও ঐক্যপ্রক্রিয়া যেখানে স্থবির হয়ে পড়েছিল—সেখানে হতাশার দীর্ঘশ্বাস ফেলছিল কোটি সুন্নী জনতা। সবাই যেন অপেক্ষায় ছিল এক ত্রাণকর্তার, এক আলোকিত হাতের ছোঁয়ার, যিনি বিভক্ত হৃদয়গুলোকে এক ময়দানে ফিরিয়ে এনে ঐক্যের মশাল প্রজ্বলিত করবেন।

সেই মুহূর্তে তিনি সামনে এলেন—সাহস, প্রজ্ঞা ও আধ্যাত্মিক মাদানার এক স্মরণীয় সত্তা। ঘোষণা করলেন—“আমার কোনো পদ চাই না। কোনো উপাধি চাই না। সুন্নীয়তের ঐক্যই আমার একমাত্র মিশন।”

পদ-মর্যাদার মোহ ত্যাগ করে তিনি নেমে পড়লেন মাঠে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা থেকে সিলেট, বরিশাল থেকে রাজশাহী—দেশের কোনায় কোনায় ঘুরে বেড়ালেন দিনের পর দিন, রাতের পর রাত। সব ব্যস্ততা, সব ব্যক্তিগত কাজ, সব দায়ভার সরিয়ে রেখে তিনি একাই ছুটে বেড়ালেন সুন্নি সমাজের প্রতিটি গ্রুপ, প্রতিটি পথ, প্রতিটি সংগঠনের শীর্ষ নেতার দ্বারে দ্বারে—শুধু একটাই কথার বারতা নিয়ে:
“আসুন, আমরা এক হই। সুন্নীয়তকে বাঁচাই।”

আলহামদুলিল্লাহ! দীর্ঘ প্রচেষ্টা, অবিচল ধৈর্য, আন্তরিকতার প্রখর আলো এবং আধ্যাত্মিক প্রভাবের বরকতে তিনি শেষ পর্যন্ত অসম্ভবকে সম্ভব করতে সক্ষম হলেন। দেশের সব সুন্নি গ্রুপ, সব সংগঠন, সব নেতাকে একত্রিত করে তিনি উপহার দিলেন একটি যুগান্তকারী কাঠামো—

আরও আশ্চর্যের বিষয়—যে দিন এই ঐক্যবাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হলো, সেই দিনটিই ছিল হযরত ইমাম হাসান (আ.) এর শাহাদাত বার্ষিকী—যিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ ও ত্যাগের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করে ইতিহাসে অদ্বিতীয় এক নজির স্থাপন করেছিলেন। তাঁর মহান সেই ত্যাগের প্রতিফলন যেন পুনর্জাগ্রত হলো এই যুগের আরেক আধ্যাত্মিক নেতার মাধ্যমে—

হযরত শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী। তিনি কেবল ইমাম হাসান (আ.)–এর আদর্শে অনুপ্রাণিতই নন—তিনি হযরত ইমাম হোসাইন (আ.)–এর ২৯তম আওলাদে পাক। তিনি নিজেই একজন বিশুদ্ধ হাসানী-হুসাইনী নূরের চেরাগ।তাঁকে দেখলে যেন নববী নূরের উত্তরাধিকারীর সৌরভ ছড়িয়ে পড়ে।

তাই বলা যায়,কৈফিয়ত খুঁজে বেড়াবেন না—চোখ থাকলে অন্তরচক্ষে দেখুন তিনি কে, কী—এবং কেন আল্লাহ তাঁকে এই ঐতিহাসিক দায়িত্বে উত্তীর্ণ করেছেন। আজ কোটি মানুষের দোয়া একত্র হয়ে উচ্চারণ করছে—“হে আল্লাহ, রাব্বুল আলামিন! আমাদের প্রিয় হুজুর কেবলা শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী–কে দীর্ঘ হায়াতে তৈয়্যিবা দান করুন।
তাঁর মাধ্যমে এই উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সুন্নীয়তের বিজয় অব্যাহত থাকুক। আমিন।”

কলাম লেখক
মোঃ শাহজাহান বাশার
সাংবাদিক ও কলামিস্ট