মোঃ শাহজাহান বাশার

দুর্নীতি আজ আর আমাদের সমাজে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি যেন একটি অদৃশ্য নেটওয়ার্ক, যার শিকড় রাষ্ট্রযন্ত্রের বহু স্তরে গেঁথে গেছে। সরকারি দপ্তরের চাইলেই পাওয়া যাওয়া ‘দলিল’, ব্যাংকের ঋণ অনুমোদন, ঠিকাদারি কাজ, এমনকি সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সেবা—সবকিছুতেই দুর্নীতির অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী প্রভাব স্পষ্ট।

সমস্যা হলো, দুর্নীতিকে অনেকেই ব্যক্তিগত লোভের বিষয় বলে মনে করেন। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো—দুর্নীতি একটি বিকৃত সিস্টেম, যা মানুষকে অপরাধ করতে প্রলুব্ধ করে, সুযোগ দেয়, নিরাপদ মনে করায় এবং প্রায়শই শাস্তির হাত থেকে বাঁচায়।
এই সিস্টেমের ভেতরে জন্ম নেয় অঙ্গীভূত স্বার্থচক্র, যাদের প্রভাব রাজনীতির মাঠ থেকে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত—সবখানেই বিস্তৃত।

দুর্নীতি যখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করে, তখন ন্যায়ের ধারণা ম্লান হয়ে যায়। ‍সৎ কর্মকর্তা হয়ে ওঠে উপহাসের বস্তু, আর অসৎরা ক্ষমতার চূড়ায় বসে ‘মডেল সফলতা’ দেখাতে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ। তারা ন্যায়বিচার না পেয়ে সিস্টেমকে ঘৃণা করতে শুরু করে, রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে।
সুতরাং, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধু আইন কঠোর করলেই হবে না—দরকার সাংগঠনিক সংস্কৃতি পরিবর্তন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সৎ মানুষদের সামনে আনার পরিবেশ তৈরি করা।