ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি ও অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা গ্রাম, পাড়া-মহল্লা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের নির্বাচনী প্রস্তাবনা উপস্থাপন করছেন।
কুমিল্লা জেলা সদরের নিকটবর্তী বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা এবং সদ্য ঘোষিত বুড়িচং পৌরসভা নিয়ে কুমিল্লা-৫ আসন গঠিত। বুড়িচং উপজেলায় রয়েছে ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা, আর ব্রাহ্মণপাড়ায় ৮টি ইউনিয়ন। এই আসনটি বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের দখলে ছিল। স্বাধীনতার পরে শুধুমাত্র ২০০১ সালে অধ্যাপক মোঃ ইউনুস বিএনপিকে জয় এনে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার আগে ও পরে বিএনপি কোন প্রার্থী এই আসনে জয়ী হতে পারেনি।
ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা-কর্মীরা দেশ ত্যাগ করলে দলের নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যায়। দীর্ঘদিনের সহযোগী বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও কার্যত অসাড় অবস্থায় থাকায় কুমিল্লা-৫ আসন দখলের লড়াই এখন মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই দুই দলের সঙ্গে মাঠে রয়েছেন ছোট ছোট দলগুলোও। প্রতিদিন দুই উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদান, মিছিল, মিটিং এবং সভা-সমাবেশের মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজেদের ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে গণসংযোগ চালাচ্ছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাবেক সদস্য সচিব ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন জসিম। তাকে ইতিমধ্যেই ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা করেছে দলের হাই কমান্ড। এছাড়া বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এটিএম মিজানুর রহমানের সমর্থকরাও মিছিল-সভায় অংশ নিয়ে গণসংযোগ করছেন। বিএনপি নেতা ও প্রধান উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার আব্দুল্লাহ আল মামুনও নিজের প্রার্থীতা নিশ্চিত করার আশায় নির্বাচনী এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত একক প্রার্থী ডক্টর এডভোকেট মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করে আসছেন। প্রতিদিন তিনি বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছান। নির্বাচনী মাঠে এবি পার্টির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিষ্টার যোবায়ের আহাম্মদ ভূইয়া ও সতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিষ্টার সোহরাব খান চৌধুরীও একইভাবে জনসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন।
এছাড়া এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলও নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত হয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন।
সর্বশেষ নির্বাচনী পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কুমিল্লা-৫ আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের প্রভাব কমে আসায়, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের প্রতিক্রিয়া, প্রার্থীদের গণসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রম এই আসনে নির্বাচনকে তীব্র ও সমীকৃত রাজনৈতিক সংঘর্ষের রূপ দিয়েছে।