মোঃ শাহজাহান বাশার

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি পাওয়া কেন্দ্রীয় সংগঠক মুনতাসির মাহমুদ এবার ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। এক ফেসবুক পোস্ট ও পূর্বের লাইভ বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা জরুরি।

সোমবার প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত ফেসবুক পোস্টে মুনতাসির মাহমুদ লেখেন—
“ছাত্র উপদেষ্টারা যাতে কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। দুদক এবং ড. ইউনুস স্যারকে বলছি, অনতিবিলম্বে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করুন।”

তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেগুলো দেশ ও জনগণের স্বার্থে তদন্ত করা প্রয়োজন।

এর মাত্র একদিন আগে, শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ করেন।

লাইভে মুনতাসির মাহমুদ বলেন—“বাংলাদেশে জুলাইকে বিক্রি করে দিয়েছে ছাত্র উপদেষ্টারা। সব উপদেষ্টাদের মধ্যে এই ছাত্র উপদেষ্টারাই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে।”

তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর এনসিপির অভ্যন্তরীণ সংকট বা অভিযোগ নিয়ে কেউ উপদেষ্টাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের ছাত্র উপদেষ্টাদের দ্বারস্থ হতে বলা হতো।
তার ভাষায়—“তাদের হাতে অ্যাবসুলুট পাওয়ার ছিল। ডিসি, ওসি থেকে শুরু করে এসেনশিয়াল ড্রাগসের এমডি, পেট্রোবাংলার এমডি—সব জায়গায় বসানো, বদলি করা, কোটি কোটি টাকা লেনদেন—সবকিছুতেই তাদের প্রভাব ছিল।”

মুনতাসির তার লাইভে আরও বলেন—“তারা জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করেছে। জনগণের স্বার্থে এই দুর্নীতির বিচার হওয়া দরকার।”

তিনি দাবি করেন, ছাত্র উপদেষ্টারা এনসিপির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, নিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের ওপর ‘অযৌক্তিক ও সীমাহীন’ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এনসিপির অভ্যন্তরে চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বক্তব্য নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। মুনতাসির মাহমুদ এনসিপি থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি পাওয়ার পর থেকেই দলীয় উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আসছেন।

তার এই নতুন বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।তবে এনসিপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।মুনতাসির মাহমুদের পোস্টের পর দুদকের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—ফেসবুকে অভিযোগ তোলা হলেও তা তদন্তযোগ্য কিনা এবং কোনো প্রমাণ ছাড়া দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা জারি আদৌ সম্ভব কিনা।

মুনতাসির মাহমুদের বক্তব্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের তদন্ত হবে কি না, কিংবা দুদক কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না—এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।