মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি এখন চরম অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের মনোনয়নকে ঘিরে একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার, কাদা ছোড়াছুড়ি ও চরিত্রহননের অভিযোগে জড়িয়ে পড়েছেন দলের প্রভাবশালী নেতারা। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন মাঠপর্যায়ের কর্মীরা, বিব্রত স্থানীয় নেতৃত্বও।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল বলছে— “রামগঞ্জ বিএনপিতে এখন ঐক্যের চেয়ে বিভাজনই বেশি দৃশ্যমান। একই দলের নেতারা যখন প্রকাশ্যে একে অপরকে দোষারোপ করেন, তখন তৃণমূল কর্মীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রামগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন অন্তত ছয়জন। তাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন— বিএনপি জোটের শরিক বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, হারুনুর রশিদ, মাশফিকুল হক জয় ও জহিরুল ইসলামসহ আরও দুইজন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা।
যদিও কেন্দ্রীয়ভাবে এখনো সাক্ষাতের ডাক আসেনি, তবুও প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে থাকার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
মনোনয়ন ঘিরে এখন চলছে অভিযোগ-প্রত্যঅভিযোগের মহড়া। কেউ কেউ নিজেদের “যোগ্য প্রার্থী” প্রমাণ করতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দলবিরোধী তৎপরতা ও “সরকার তোষণের” মতো গুরুতর অভিযোগ তুলছেন।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অস্বীকার করছেন অপরপক্ষ।
একাধিক স্থানীয় নেতা জানিয়েছেন, “রামগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে দলের ভাবমূর্তি রক্ষার চেয়ে ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, যেকোনো বিভক্ত দলের প্রতি ভোটারদের আস্থা দ্রুত নষ্ট হয়।
তারা বলেন, “যদি দলীয় ঐক্য ফিরিয়ে আনা না যায়, তবে রামগঞ্জ আসনে বিএনপি নিজেদের হাতে নিজেদের পরাজয়ের পথ তৈরি করছে।”
নিম্ন পর্যায়ের কর্মীরা বলছেন, প্রতিদিন নতুন নতুন বিরোধ, গোষ্ঠীগত বিভক্তি ও পারস্পরিক অপবাদে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলেছেন, “নেতাদের এই বিবাদে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা শুধু হতাশই নয়, অনেকেই রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।”
রামগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি এখন এমন এক সঙ্কটের মুখে, যেখানে দলীয় ঐক্যের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে না আনলে এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির জন্য এই আসনটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে— এমনটাই বলছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।