মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়েখে চরমোনাই) বলেছেন, “১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা ভৌগোলিক মুক্তি পেলেও মানুষের প্রকৃত মুক্তি ও কল্যাণ আজও অধরাই থেকে গেছে। দেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা পায়নি। স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা, কিন্তু আজও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতায় আসার জন্য কেউ কেউ ভারত ও আমেরিকার দাসত্ব গ্রহণ করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে। অথচ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও চাঁদাবাজ, দখলবাজ, জুলুমবাজদের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। নীতি ও আদর্শের পরিবর্তন না হলে মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।”

শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘স্বাধীনতার পথরেখা – ৪৭, ৭১, ২৪: প্রেক্ষিত আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শাসন জনগণ দেখেছে। তাদের শাসনে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু দেশ, দল ও নেতা পরিবর্তন করে শান্তি আসবে না। শান্তি তখনই আসবে, যখন আমরা নীতি-আদর্শের পরিবর্তন আনতে পারব এবং ইসলামের সুমহান আদর্শকে রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে পারব।”

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, “১৯৪৭ সালে দেশভাগ হয়েছিল দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে—পাকিস্তান হবে মুসলমানদের জন্য, হিন্দুস্তান হবে সনাতনীদের জন্য। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের জুলুমের বিরুদ্ধে আবারও আমরা গর্জে উঠেছিলাম। অথচ আজও কায়েমী স্বার্থবাদী লুটেরারা সমাজ ও রাজনীতিকে দুর্বৃত্তায়নের কবলে রেখেছে, আর যুবসমাজকে ব্যবহার করছে।”

তিনি আহ্বান জানান—যুবসমাজকে মিথ্যার জৌলুস ও অন্যায়ের মরিচিকার পেছন থেকে ফিরিয়ে এনে ইসলামের আলোয় উজ্জীবিত করতে হবে। “আমরা ঐতিহাসিক আওয়াজ তুলেছিলাম—‘শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই’। হেরার আলোকচ্ছটায় উদ্ভাসিত সেই মশালই পারবে নব্য জাহিলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত সমাজকে আলোয় ভরিয়ে দিতে।”

গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমদ সাকী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যিনি বলেন, “পশ্চিমা দখলদার গোষ্ঠী ও ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারত বাংলাদেশকে তাদের তাঁবেদার বানিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু স্বাধীনচেতা জনগণ বিদেশী শক্তির কাছে নত হয়নি, বরং শাসকগোষ্ঠী বারবার ক্ষমতায় যেতে বিদেশী শক্তির তাঁবেদারি মেনে নিয়েছে—এটাই আমাদের জন্য দূর্ভাগ্যের।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “১৯৭২ সালের সংবিধান ভারতের স্বার্থরক্ষাকারী। বিএনপি আজও ভারতের ইশারায় সেই সংবিধান টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ২৪শের অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রে মৌলিক সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হতে পারে না।”

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল মোমেন,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক,ব্র্যাকের এইচআর এন্ড ডেভেলপমেন্ট প্র্যাক্টিশনার ফারহান বাশার,বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মুফতি জাহিদুজ্জামান,যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু,যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসান,বাংলাদেশ ইসলামী যুব সমাদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ খান,ইসলামী যুব মজলিসের সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাব্বির আহমদ

সভাপতির বক্তব্যে আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন,“৪৭-এর দেশভাগ, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং আগামীর কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ—এই তিনটি পথরেখাই আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নকে বহন করে। আগামীর সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে যুব সমাজকে ইসলামের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।”

বক্তারা একবাক্যে বলেন, স্বাধীনতার লক্ষ্য পূরণে যুব সমাজকে ইসলামী আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি কেবলমাত্র একটি কল্যাণকর ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সম্ভব।