রংপুর ব্যুরোঃ
(নিয়ম বহির্ভূত টেবিল বেঞ্চ বিক্রি করার চেষ্টা ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়ম)
রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার হাজী ছফের উদ্দিন দি-মুখী আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা কাগজে -কলমে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী দেখা গেলেও বাস্তবে নেই ৫০ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে কৌশলে অফিস সহকারীকে ভাগিয়ে দেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। এ ছাড়া মাদ্রাসাটিতে নেই কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবহারিক রুম। নেই একটি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ,বিজ্ঞানাগার
নেই, লাইব্রেরীর কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নেই শৌচাগার, ছাত্রীদের একটি কমন রুম নেই, মেরামতের অভাবে নষ্ট হচ্ছে পুরাতন অফিস ঘরসহ বেশ কিছু পড়ার বেঞ্চ টেবিল।
এখানেই শেষ নয়, সরকারি ভাবে দেয়া প্রজেক্টর, ল্যাপটপ মেরামতের অভাবে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। জাপান সরকার প্রদত্ত বিশেষ প্রনোদনার ল্যাপটপ ও ৪৩ ইঞ্চি এলইডি টিভি মাদ্রাসা থেকে উধাও।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগের সূত্র ধরে সরেজমিনে দেখা যায়, শুধু কাঠ পরিবর্তন করে যেসকল বেঞ্চ টেবিল মেরামত করা সম্ভব, এমন প্রায় ৪০ জোড়া বেঞ্চ ও টেবিল বেঞ্চ বিক্রির উদ্দেশ্যে দায়সারা একটি রেজুলেশন করে ভাঙরি দোকানে বিক্রির চেষ্টা করছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউএনও সাহেব বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন। পরে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সাহেবের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমাকে বলা হয়েছে ব্যবহারের অযোগ্য ভাঙ্গা নষ্ট কিছু বেঞ্চ টেবিল বিক্রয় করে তার সাথে কিছু টাকা যোগান দিয়ে নতুন
বেঞ্চ টেবিল কেনা যাবে। এরই প্রেক্ষিতে আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার সাহেবকে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রয়ের জন্য বলেছিলাম। তারা টেন্ডার ছাড়া এটা করতে পারে না, বিধায় অভিযোগ পাওয়ার পর তাদেরকে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানান, বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ চলেন, মাদ্রাসার গুটিকয়েক শিক্ষকের উপর ভর করে। তাদের যোগসাজসে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম করে যাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানান,মাদ্রাসায় নিয়মিত ভাবে অ্যাসেম্বলি করা হয়না।
জানা গেছে মাদ্রাসাটি ১৯৬৫ সালে মরহুম হাজী ছফের উদ্দিন প্রায় ১০০ শতক জমি দান পূর্বক পীরগাছার প্রাণকেন্দ্রে দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে আলিম পর্যন্ত উন্নীত হয়। ১৯৮৭ সালে এমপিও ভুক্ত হয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন সময় অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন, মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি ২০২৩ সালের ৩১শে ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করেন। এর পর ওই সময় তৎকালীন সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জালাল বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সাহেবকে ২৮-১২-২৩ ইং তারিখে উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। এরপরের পর্বে তার সহযোগীদের নামসহ আরও বিস্তারিত আসছে।