১০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার পলাতক আসামী র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ৩০০০ বার পঠিত হয়েছে

আবুল হোসেন বাবলুঃ

র‍্যাব-১৩’র অভিযানে একটি চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত প্রধান আসামি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার।

জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে রাস্তার পাশে ঝোঁপের ভিতর থেকে একজন অজ্ঞাতনামা মহিলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানাধীন গান্দিগাঁও গ্রামে রাস্তার পাশে ঝোঁপের ভিতর অজ্ঞাতনামা একজন মহিলার মরদেহ পড়ে আছে মর্মে জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ছুটে যায় পুলিশ। উদ্ধার করে একজন অজ্ঞাত মহিলার মরদেহ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ মূলে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৫।

পরবর্তীতে থানা পুলিশ তদন্তকালে ভিকটিমের নাম পরিচয় পায়। নিহত ওই নারী খুলনা জেলার কয়রা থানা এলাকার জায়গীর মহল আমাদী গ্রামের মুনসুর রহমান গাজীর ছেলে
বর্তমান ঠিকানা কুড়িগ্রাম জেলার সদর থানাধীন মৎস্য খামার গ্রামে বসবাসকারী আলমগীর গাজীর দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ এলিজা বেগম (৩৫)।

বিবাহের পর থেকে তাদের মধ্যে প্রায়ই ছোট খাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকতো। এছাড়া প্রায় সময়ই ধৃত আসামি তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় ধৃত আসামি এলিজা বেগমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে  ১৩ নভেম্বর বিকেলে আলমগীর গাজী তার  সহযোগীসহ ভিকটিমকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঝোঁপের ভিতরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক হত্যাকান্ড হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব।

তদন্তের একপর্যায়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ০১ জুন ২০২৬ দুপুর আনুমানিক সোয়া দুইটার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানাধীন উমর মজিদ ইউপিস্থ ০৬নং ওয়ার্ডের আনন্দ বাজার এলাকার আলতাফ হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃ আসামি খুলনা জেলার কয়রা থানাধীন জায়গীর মহল আমাদী গ্রামের মুনসুর রহমান গাজী এর ছেলে বর্তমান ঠিকানা কুড়িগ্রাম জেলার সদর থানাধীন মৎস্য খামার গ্রামের আলমগীর গাজী (৩৬)। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার পলাতক আসামী র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার পলাতক আসামী র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

Update Time : ১০:০৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

আবুল হোসেন বাবলুঃ

র‍্যাব-১৩’র অভিযানে একটি চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত প্রধান আসামি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার।

জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে রাস্তার পাশে ঝোঁপের ভিতর থেকে একজন অজ্ঞাতনামা মহিলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানাধীন গান্দিগাঁও গ্রামে রাস্তার পাশে ঝোঁপের ভিতর অজ্ঞাতনামা একজন মহিলার মরদেহ পড়ে আছে মর্মে জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ছুটে যায় পুলিশ। উদ্ধার করে একজন অজ্ঞাত মহিলার মরদেহ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ মূলে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৫।

পরবর্তীতে থানা পুলিশ তদন্তকালে ভিকটিমের নাম পরিচয় পায়। নিহত ওই নারী খুলনা জেলার কয়রা থানা এলাকার জায়গীর মহল আমাদী গ্রামের মুনসুর রহমান গাজীর ছেলে
বর্তমান ঠিকানা কুড়িগ্রাম জেলার সদর থানাধীন মৎস্য খামার গ্রামে বসবাসকারী আলমগীর গাজীর দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ এলিজা বেগম (৩৫)।

বিবাহের পর থেকে তাদের মধ্যে প্রায়ই ছোট খাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া লেগেই থাকতো। এছাড়া প্রায় সময়ই ধৃত আসামি তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় ধৃত আসামি এলিজা বেগমের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে  ১৩ নভেম্বর বিকেলে আলমগীর গাজী তার  সহযোগীসহ ভিকটিমকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঝোঁপের ভিতরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক হত্যাকান্ড হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব।

তদন্তের একপর্যায়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ০১ জুন ২০২৬ দুপুর আনুমানিক সোয়া দুইটার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট থানাধীন উমর মজিদ ইউপিস্থ ০৬নং ওয়ার্ডের আনন্দ বাজার এলাকার আলতাফ হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃ আসামি খুলনা জেলার কয়রা থানাধীন জায়গীর মহল আমাদী গ্রামের মুনসুর রহমান গাজী এর ছেলে বর্তমান ঠিকানা কুড়িগ্রাম জেলার সদর থানাধীন মৎস্য খামার গ্রামের আলমগীর গাজী (৩৬)। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।