রংপুর ব্যুরোঃ
র্যাব-১৩'র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সদর কোম্পানি রংপুর এর একটি আভিযানিক দল (০৩ জুলাই) রাত ৩ টার দিকে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন সাতমাথা নগর মাতৃসদনের সামনের উন্মুক্ত মাঠে অভিযান চালায়।এ সময় জুয়া খেলা অবস্থায় ১৩ জন আন্তঃজেলা জুয়া চক্রের সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা রংপুর মহানগর কোতয়ালী থানার অন্তর্ভুক্ত সাতমাথা শনিবাড়ী এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে এরশাদ হোসেন (৩৫), আলী হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (২৯), দিনাজপুর জেলার কাহারোল থানাধীন পানিশাইল গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল খালেক (৪২), নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানাধীন গদাউচাপাড়া গ্রামের আনারুল এর ছেলে আব্দুল জলিল (২৮), দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানাধীন ছোট সুলতানপুর গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাব এর ছেলে নবাব আলী (৪২), রংপুর জেলার কাউনিয়া থানাধীন হরগোবিন্দ গ্রামের ইনসাফ আলীর ছেলে সাগর (২১), দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত কলেজপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বার এর ছেলে রিপন (৩৮), নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত চাদখানা গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে দিশাদ হোসেন (২৬), রংপুর মহানগর কোতয়ালী থানাধীন পশ্চিম খাসবাগ এলাকার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে শহীদুজ্জামান (৪০), নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত নিতাই গ্রামের বেলাল হোসেন এর ছেলে আল আমিন (৩০), দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার কাজল গ্রামের স্বর্গীয় গদাধর চন্দ্রের ছেলে
অবিনাশ চন্দ্র (৪০), একই গ্রামের ভূপেন্দ্রণাথ রায় এর ছেলে কৃষ্ণ কান্ত রায় (৩৭) এবং রংপুর মহানগর কোতয়ালী থানার অন্তর্ভুক্ত সাতমাথা রেলগেট এলাকার ইব্রাহিম মিয়ার ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (১৮)।
অভিযানকালে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের খেলার তাস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৭টি স্মার্টফোন (REALME -২টি, SAMSUNG-১টি, VIVO-১টি, OPPO-১টি, SYMPHONY-১টি ও TECNO-১টি) জব্দ করা হয়। এছাড়া অভিযানকালে জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত নগদ ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮ শত ৫০ টাকা উদ্ধারপূর্বক জব্দ করেছে র্যাব।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা একটি আন্তঃজেলা জুয়াচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ও অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চক্রটির অন্যান্য সদস্য ও আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অনলাইন ও প্রকাশ্য জুয়া, ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে র্যাব-১৩'র গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।