আবুল হোসেন বাবলুঃ
রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানাধীন এলাকায় ঘরে ঢুকে গৃহবধুর মুখ চেপে ধরে পরনের কাপড় কাপড় ছিড়ে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গৃহবধুর স্বামী বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
বাদী সাইদুল ইসলামের দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব-১৩'র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিকটিম বাদীর স্ত্রী। সাইদুল ইসলাম গঙ্গাচড়া থানাধীন ধনতোলা বাজারে চায়ের দোকান করেন।
ঘটনার দিন ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ রাত ৮ টায় সাইদুল ইসলাম গঙ্গাচড়া থানাধীন ধনতোলা বাজারে নিজের চায়ের দোকানে ব্যবসা করছিলেন। সাইদুল ইসলামের স্ত্রী বাড়িতে একা থাকার সুযোগে প্রতিবেশী হাবিবুর রহমান চুপিসারে ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধুর মুখ চেপে ধরে তার পরিধেয় কাপড় ছিড়ে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এ সময় ওই গৃহবধু কোনোরকমে মুখ থেকে হাত সরিয়ে চিৎকার দিলে বাদীর পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশীরা ভিকটিমের বাড়িতে এসে হাবিবুরকে হাতেনাতে আটক করে একটি ঘরে আবদ্ধ করে রাখে।
ঘটনাটি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লে হাবিবুরের পিতা-মাতা অজ্ঞাত কিছু লোকজন নিয়ে বাদীর বাড়িতে এসে বাদীর পরিবারের লোকজনের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু করে। একপর্যায়ে, হাবিবুরের পরিবারের লোকজন বাদীকে মারধোর করে তার ঘরের দরজা ভেঙ্গে হাবিবুরকে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যায়।
উক্ত ঘটনায় গত (২১ ফেব্রুয়ারী) ভিকটিমের স্বামী সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(ক)(১); তৎসহ পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৫০৬/১০৯ ধারায় জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং সংঘবদ্ধ অনধিকার প্রবেশ করে মারধর করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২১। ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে আসামিগণ আত্মগোপনে ছিলো।
থানায় মামলার প্রেক্ষিতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব।এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ রংপুর সিপিএসসি ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল ১০ জুন রাত সোয়া দুইটার দিকে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানাধীন ধনতলা বাজার কলাবাড়ি ০৫নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বেতগাড়ী গ্রামে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত ধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত হাবিবুর রহমান (২৫) রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানার অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ বেতগাড়ী, কলাবাড়ী গ্রামের নয়া মিয়ার ছেলে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।