আবুল হোসেন বাবলুঃ
রংপুর মহানগরীর সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, যানজট নিরসন এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাত্রী সাধারণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে " রংপুর মহানগর সড়ক নিরাপত্তা কমিটি'র এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরপিএমপি’র পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এর সভাপতিত্বে উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় আরপিএমপি’র বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ, অতিরিক্ত ডিআইজি (এটিইউ) মহিবুল ইসলাম খান, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) হাবিবুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মাহফুজুর রহমান এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ।
এছাড়াও উক্ত সভায় অংশ নেন বিআরটিএ’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সড়ক ও জনপদ, রংপুর) আজিজুল হক, রংপুর ফায়ার সার্ভিস উপ-পরিচালক আনোয়ারুল হক, র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মনিরুজ্জামান, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার রহমান, রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. এফাজুল হকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মহানগরীর সড়ক ব্যবস্থাপনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীসেবার বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়ম তুলে ধরেন। বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কার্যকর নজরদারির দাবি জানান। পাশাপাশি মডার্ন মোড় এলাকায় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সংস্থাটির বাসগুলোকে বিভিন্ন স্থানে জিম্মি করে রাখা হচ্ছে এবং সাধারণ যাত্রীদের সেসব বাসে উঠতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে এসআর ট্রাভেলস-এর প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত কাউন্টার ব্যতিরেকে বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে টিকিট বিক্রির কারণে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
সভায় উত্থাপিত অভিযোগ ও মতামত মনোযোগ সহকারে শোনার পর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে সড়ক ও টার্মিনাল এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, হয়রানি কিংবা যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ বরদাশত করা হবে না। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি রংপুর মহানগরীকে যানজটমুক্ত, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।