আবুল হোসেন বাবলুঃ
এই উত্তরাঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতার পর ৫৫ বছরেও তাদের ন্যূনতম পাওনাটুকু সরকারের কাছ থেকে পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উত্তরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছিলেন উল্লেখ করে ডা.শফিকুর রহমান বলেন, সেই অবদানের জন্য তিনি ধন্যবাদ পাওয়ার দাবিদার। তবে এর আগে ও পরে উত্তরবঙ্গের মানুষকে ন্যূনতম অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে যদি ইকোনমিক ডেমোগ্রাফির দিক থেকে ভাগ করা হয়, তাহলে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা এলাকার নাম উত্তরবঙ্গ। রাজধানী থেকে যে জেলা যত দূরে, সে জেলা তত বেশি সুবিধা ও অধিকারবঞ্চিত। বিশেষ করে তিস্তাবেষ্টিত আপনাদের এই এলাকা।
উত্তরাঞ্চলের নদীভাঙন, পানিসংকট ও কৃষি দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন,
‘নদীগুলো একসময় রহমত ছিল, কিন্তু সেই রহমত এখন মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর পলি ও বালু জমে নদীগুলো হয়ে গেছে মরুভূমি। বর্ষা মৌসুমে পানি ধারণ করার ক্ষমতা নাই। ফলে বর্ষায় নদীর দুই পাড় ভাঙতে থাকে। হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ও স্বপ্ন বালুর সঙ্গে মিশে যায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা ফসল ফলানোর জন্য প্রয়োজনীয় সেচের এক ফোঁটা পানি পান না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের দল নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে সরকারদলীয় প্রভাব থাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে বিরোধী দলকে অবহিত করা হয়নি। এর আগেও এ বিষয়ে আমি বক্তব্য দিয়েছিলাম। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এ বিষয়ে আমাদের সাথে কোনো কথা হয়নি।দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য, প্রক্টর ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগের কড়া সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেখানে জ্ঞানের চর্চা হওয়ার কথা, সেখানে দলীয়করণ করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখতে হবে।
তিনি এও বলেন যে, “সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে দেশের বড় বড় সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। জামায়াতের আমির বলেন, আল্লাহ তা'আলা যদি আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে তিস্তার মুখে প্রথম কোদাল মেরে এখান থেকেই উন্নয়ন শুরু হবে ইনশা আল্লাহ। তিস্তাপাড়সহ ৩ নদীপাড়ের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলছি।
বিরোধী দলীয় নেতা দাবি করেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে তিস্তা ইস্যুতে বড় আন্দোলন করলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত বড় একটা এলাকাকে অবহেলা-অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, এটা কল্পনা করা যায় না।
এ সময় তিনি রংপুরের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শহীদ আবু সাঈদ-এর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, রংপুরবাসী চিরদিন সম্মানের দাবিদার। আপনাদের সন্তান আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে আন্দোলনে সাহস জুগিয়েছিল। দেশের মানুষ তার আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না।
সুধী সমাবেশ শেষে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানের নাম ঘোষণা করেন। এর আগে শুক্রবার সকালে জামায়াতের আমির রংপুর নগরীর মডেল কলেজ মিলনায়তনে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের আয়োজনে উপজেলা ও থানা আমিরদের নিয়ে বিভাগীয় সম্মেলনে যোগ দেন।