আবুল হোসেন বাবলুঃ
রংপুর নগরীর বৈরাগীপাড়া (মাছুয়া পাড়া) এলাকায় যুবদল নেতা রাকিব হাসানকে (২০) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশ।

গত ১৩ এপ্রিল সোমবার র্যাব-১৩ সদর কোম্পানী রংপুরের একটি আভিযানিক দল মমিন মিয়া ও তার স্ত্রী সুইটি বেগমকে গ্রেফতার করে। একইদিন আঃ মজিদকে গ্রেফতার করেছে মহানগর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ৩ জনকে উল্লেখিত হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগাড়ে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মহানগরীর রবার্টসনগঞ্জ তাঁতীপাড়া এলাকার মৃত মুসলিম উদ্দিনের ছেলে মমিন মিয়া (৪২) ও তার স্ত্রী সুইটি বেগম (৩৫) এবং একই এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে আঃ মজিদ (৩১)।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈরাগীপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় নগরীর ২৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হাসান হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
এ ঘটনায় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে নিহত রাকিবের বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ পূর্বক পেনাল কোডের ১৪৩/ ৩৪১/৩২৩/ ৩২৫/৩০৭/ ৩০২/৫০৬/১১৪/১৪৯ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৪। এ মামলায় আরও ৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার ইমাদপুর ইউনিয়ন এর সাহাপাড়ার জনৈক রুবেল এর বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে মমিন মিয়া ও তার স্ত্রী সুইটি বেগমকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৩। একইদিন রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রংপুর নগরীর বৈরাগীপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকা থেকে আব্দুল মজিদকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর তাঁতীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মমিন মিয়া ও তার সহযোগীরা রাকিব হাসানের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হলে ঘটনাস্থলেই রাকিবের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ ছাড়াও ঘটনার আগের দিন মমিনের স্ত্রীর সঙ্গে রাকিবের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল বলেও জানা গেছে। ঘটনার আগের দিন বুধবার এক চায়ের দোকানে রাকিব মমিনকে উদ্দেশ করে গালি দিলে মমিনের স্ত্রীর সঙ্গে তর্ক হয়।
এ ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে রাকিবকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতালি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে মমিন।
সোমবার ১৩ এপ্রিল রাত ১০ টায় র্যাব-১৩'র সদর ক্যাম্পে আয়োজিত এক ফ্রেশ ব্রিফিংয়ে র্যাব-১৩-এর কোম্পানি কমান্ডার মহিদুল ইসলাম বলেন, মমিনের সঙ্গে আগে থেকে শত্রুতা থাকলেও স্ত্রীর উসকানিতেই মমিন মিয়া হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে রাকিবকে হত্যা করে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার আগের দিন ভিকটিম রাকিবের সঙ্গে আসামি সুইটি বেগমের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তিনি মোবাইল ফোনে তার স্বামী মমিন মিয়াকে বিষয়টি জানিয়ে উস্কানি দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন মমিন মিয়া রাকিবকে হত্যা করে।
রাকিবের বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাকিবের পা ভেঙে দিয়েছিলো মমিন। সে সময় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রাকিবকে চিকিৎসা নিতে হয়।