আবুল হোসেন বাবলুঃ
রংপুরে বাক-প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে মামলার প্রেক্ষিতে প্রধান আসামিকে গাইবান্ধা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩। উল্লেখ্য যে, ভিকটিম একজন বাক-প্রতিবন্ধী হলেও তিনি আকার ইঙ্গিতে সবকিছু বোঝাতে পারেন।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাক-প্রতিবন্ধীর স্বামী তার স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতে যান। একই তারিখ বেলা অনুমান ১১টার দিকে বাদীর মেয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাকে জনায়, নিফুল নামের একজন ব্যক্তি তার মা-কে ধর্ষণ করেছে। সংবাদ পেয়ে বাদী বাড়িতে আসলে তার বাক-প্রতিবন্ধী স্ত্রী তাকে আকার ইঙ্গিতে জানান, নিফুল আমাকে ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে রান্নাঘরের মেঝেতে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে।
এ ঘটনায় ৩১ জুলাই বাক-প্রতিবন্ধী নারীর স্বামী বাদী হয়ে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানায় নারী ও শিশু নির্য়াতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী) অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ৯(১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৭৯। ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামি আত্মগোপনে ছিলো। উক্ত ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় আসামি গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এবং সিপিসি-৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল ০৯ এপ্রিল ভোর সোয়া চারটায় গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানাধীন কঞ্চিপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্ভুক্ত ইমাদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে নিফুল মিয়া (৪২)। পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।