আবুল হোসেন বাবলুঃ
রংপুরে এক চাকরি প্রত্যাশী নারী পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারীকে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা। এজাহারনামীয় প্রধান দুই আসামি র্যাব-১৩'র হাতে গ্রেফতার।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহত রুপভান আক্তার এবং অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার অন্তর্ভুক্ত নগভক্ত জসিপাড়া গ্রামে।
জাকির হোসেন তার পরিবার নিয়ে রংপুর মহানগরীর ইসলামবাগ শান্তিধারা এলাকার ফজলুল হক এর বাসায় ভাড়ায় বসবাস করতো।
অপরদিকে নিহত রুপভান আক্তার ও রংপুর মহানগরীর ধাপ লাল কুঠি (পিটিআই ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায়) ভাড়া বাসায় তার দুই পুত্র সন্তান আবু হুরায়রা জয় (১৪) এবং আবু রাহাত রোহান (০৩) কে নিয়ে বসবাস করতো।
উভয়ের মধ্যে পূর্ব পরিচিতি সূত্র ধরে সুযোগ নেয় জাকির হোসেন ও তার পরিবার। সরকারি প্রাইমারী স্কুলের চাকুরী দেওয়ার কথা বলে রুপভান আক্তারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় মোট ১৭,০০,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রুপভান আক্তারের কাছ থেকে নেয়া টাকা দিয়ে তার বোন কাজলী বেগম এর চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়।
বিষয়টি বুঝতে পেরে রুপভান আক্তার জাকির হোসেনের কাছে তার প্রদানকৃত টাকা ফেরত চাইলে জাকির বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে রুপভান আক্তার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললে শুরু হয় হুমকি ধমকি। এরই ধারাবাহিকতায় গত (০১ মার্চ) টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে জাকির হোসেনের ভাড়াবাসায় রুপভানকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে বাহির থেকে তালা দিয়ে সপরিবারে পালিয়ে যায় জাকির হোসেন। এ ঘটনায় ০২ মার্চ রুপভান আক্তারের ভাই আতাউর রহমান বাদী হয়ে রংপুর মহানগর কোতয়ালী থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০৩/৫১।
লোমহর্ষক হত্যাকান্ডটি এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে আসামিদের গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব।এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এবং সিপিসি-২ নীলফামারী ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল ২৯ মার্চ রাত সোয়া তিনটার দিকে পঞ্চগড় জেলার সদর থানাধীন ০৪নং কামাতকাজল দীঘি ইউনিয়নের অন্তর্গত টুনিরহাট গ্রামের
জনৈক আনারুল মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আলোচিত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান দুই পলাতক আসামি নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার অন্তর্ভুক্ত নকবক্ত জসিপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন এর ছেলে জাকির হোসেন (৩৫) এবং তার স্ত্রী মোছাঃ শিউলি বেগম (৩০)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব।