আবুল হোসেন বাবলুঃ
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস মিশুক চালক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনসহ অভিযুক্ত সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে গঙ্গাচড়া থানা পুলিশ। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতারকৃতরা।
রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া মডেল থানাধীন উত্তর পানাপুকুর গিরিয়ার পাড় গ্রামে অবস্থিত চৌধুরী রাইস মিল থেকে আধা কিলোমিটার পূর্বদিকে ফাঁকা দোলার মাঝে আসামী মিঠু মিয়া ও ইসমাইল হোসেন গং মিশুক গাড়ীর চালক পরদিন রবিউল ইসলামকে হত্যা করে ব্যাটারী চালিত মিশুক গাড়ীটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
পরদিন মানু ভাঙ্গা কালভার্টের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা গেছে, তদন্তেপ্রাপ্ত গ্রেফতারকৃত আসামী মিঠু মিয়া ও ইসমাইল হোসেন পলাতক অভিযুক্ত পারভেজ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তরা চার্জার মিশুক গাড়ীটি ছিনতাইকালে রবিউল ইসলাম কে নৃশংসভাবে হত্যা করে কালভার্টের নিচে মরদেহটি ঢুকিয়ে রাখে।
আলোচিত রবিউল হত্যা মামলায় রহস্য উদঘাটন করে অভিযুক্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে রংপুর জেলা পুলিশ। এছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করে জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত হত্যাকান্ডে জরিত মিঠু মিয়া (৩০) রংপুর মেট্রোপলিটন হাজীর হাট উত্তম মাষ্টারপাড়া গ্রামের আফসার আলীর ছেলে এবং একই গ্রামের হামিজ উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল হোসেন আবির (২০)। চোরাই মিশুক গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত গাইবান্ধা জেলার সদর থানাধীন ডেভিড কোম্পানী পাড়া গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে নাসির মিয়া (৪৫) এবং একই থানার অন্তর্ভুক্ত চক মমরোজপুর (কাজীর বাড়ি) এলাকার কালাম মিয়ার ছেলে লেবু মিয়া (৪০)।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুস সবুর জানান, ঘটনাটি ছিল রহস্যজনক, চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস। সম্মানিত পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) এর সার্বিক সহযোগিতায় ডিবিসহ বিভিন্ন ইউনিট ও গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশ, গংগাচড়া মডেল থানার এফআইআর নং-৯, তারিখ- ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫; জি আর নং-৪০০, তারিখ- ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫; ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ Penal Code, 1860; মূলে ক্লুলেস হত্যা রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নামে এবং আমরা রবিউলের ছিনতাই যাওয়া চার্জার মিশুক গাড়ীটি উদ্ধার সহ হত্যার সাথে জরিত ২ জন মুল আসামী এবং চোরাই মিশুক গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত ২জনসহ মোট ৪ জনকে ১৪ ও ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। প্রাথমিকভাভে জানা গেছে, গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে রবিউলকে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামীদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হত্যার দায় স্বীকার করেছে।