রংপুর ব্যুরোঃ
রংপুরের বদরগঞ্জে রেকটিফাইড স্পিরিট নামে ভেজাল মদ খেয়ে ৩ মদখোরের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন, বদরগঞ্জ থানাধীন ১১নং গোপালপুর ইউনিয়নের কিসামত বসন্তপুর পূর্ব শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলাম এর ছেলে সোহেল (৩৫) এবং একই থানাধীন বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর (৪০) এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর শাহ পাড়ার জেনতার আলী (৪১)।
গত ১১ জানুয়ারী বিকেলে বদরগঞ্জ উপজেলার কিসামত বসন্তপুর গ্রামের মৃত আনারুলের ছেলে চিহ্নিত মাদক কারবারি জয়নুল আবেদীন @ জাইনুলের বাড়িতে বসে মদের আড্ডা। এ সময় ভেজাল মদ পান করে বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। প্রথমে সোহেল কে স্থানীয় ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা দেয়ার পরও রাত সাড়ে বারোটার দিকে মারা যায় সোহেল। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আলমগীর (৪০) কে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায় আলমগীর পথিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে জেনতার আলী কখন মারা গেছেন তা জানাতে পারেনি পুলিশ।
জানা গেছে, উপজেলা গোপালপুর ইউনিয়নের কিশামত বসন্তপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে খাইরুল ইসলাম ও রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দরের দর্জি আনিচুল এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
এ ঘটনায় মাদককারবারি জয়নুল আবেদীন @ জাইনুলকে ১০ বোতল বি-ষাক্ত ম-দ সহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, শ্যামপুরের বসন্তপুর এলাকার বাসিন্দা জায়নুল চোলাই মদ ও রেকটিফাইড স্পিরিট বিক্রি করে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর জানান, পুলিশ মাদকসেবীদের বাড়িতে গিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।এব্যাপারে নিহতদের পরিবারের পক্ষ হতে থানায় এজাহার প্রদান করলে এজাহারের ভিত্তিতে বদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা রুজু হয়, যার মামলা নং-৪, তাং- ১২/০১/২৬ ইং ধারা- ৩৭২/৩৭৩/ ৩০২/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০।
উল্লেখ্য ঘটনার পরপরই রংপুর জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনসহ জেলা পুলিশের উদ্ধতন কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। গ্রামবাসীরা বলছেন, মাদকের এক অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে শ্যামপুর অঞ্চল। শ্যামপুর অঞ্চলকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরী।