
কুমিল্লার প্রতিনিধি: বাকশিমুল ইউনিয়নে আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা, বিশ্লেষণ ও সম্ভাবনার হিসাব-নিকাশ। স্থানীয় জনমতে ইতোমধ্যে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে মোঃ জসিম উদ্দিনের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। এলাকায় জোর আলোচনা রয়েছে—তিনি আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
দুর্যোগ, বন্যা কিংবা করোনাকাল—বিভিন্ন কঠিন সময়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয়দের একাংশ জানান। নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রান্তিক মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং দল-মত নির্বিশেষে যোগাযোগ রক্ষার কারণে তিনি একটি পরিচিত মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন।
বাকশিমুল ইউনিয়নের রাজনৈতিক ইতিহাসে মরহুম আব্দুস সাত্তার চেয়ারম্যানের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা যায়। প্রায় ৪৫ বছরের বেশি সময় ধরে এ পরিবার ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ছোট ভাই হিসেবে মোঃ জসিম উদ্দিনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি দলের প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি বাকশিমুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় সমর্থনের ভিত্তিতে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
তবে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিশ্চিত নয়। রাজনীতিতে শেষ মুহূর্তে সমীকরণ পরিবর্তনের নজির রয়েছে।
জসিম উদ্দিন বলেন, “আমার বাবা সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুস সাত্তার সাহেব এবং আমার চাচাতো ভাই সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁদের মতো আমিও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিবার ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছে।
নেতৃত্বের প্রশ্নে বাকশিমুল ইউনিয়নের মানুষ কাকে বেছে নেবে, তা নির্ভর করবে জনসম্পৃক্ততা, উন্নয়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং সবার জন্য সমান নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের ওপর।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।