গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ২ নম্বর হোসেনপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি অপসারণ, প্রকল্পটির অর্থায়নের উৎস, সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক প্রভাব এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় তদন্তের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন ভূরুঙ্গামারী ক্বওমী ওলামা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা শাইখুল হাদিস মুফতি মো. জিয়াউল হক এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি সা'দ বিন হাম্মাদী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতী ওমর ফারুক।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ২ নম্বর হোসেনপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন বৃহৎ রামমূর্তি নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ, আলোচনা ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, প্রকল্পটি ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রকল্পটির উদ্যোক্তা এবং অর্থায়নের উৎস নিয়ে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে। এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতাও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া স্মারকলিপিতে ভারতীয় কূটনৈতিক মহলের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—নির্মাণাধীন প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত, অর্থায়নের উৎস ও ব্যয়ের তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন নিরীক্ষা, বিদেশি সম্পৃক্ততা যাচাই, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ।
স্মারকলিপিদাতারা আশা প্রকাশ করেন, জনস্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।