মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের চান্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই সহকারী শিক্ষকের মধ্যে সংঘটিত মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ৩৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মারামারিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান জুনায়েদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় অপর সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করেছে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা হালিমা পারভীন জানান, ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ে একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা কার্যালয়ে পাঠানোর পর ১৫ ডিসেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জুনায়েদকে সাময়িক বরখাস্ত এবং মো. মহিউদ্দিনকে শোকজের সিদ্ধান্ত দেন।
জানা গেছে, গত ৮ ডিসেম্বর দুপুরে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। তবে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন শিক্ষক অপর শিক্ষককে চেয়ারের সঙ্গে চেপে ধরে আছেন। এ সময় একজন নারী শিক্ষক আতঙ্কিত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, “আল্লাহ রহম করো… মারামারি করন লাগে দুজনে, কাইজ্জা করন লাগে?”
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান জুনায়েদ ও মো. মহিউদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন তা তীব্র বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত হয়ে মাহমুদুল হাসান জুনায়েদ অফিস কক্ষে থাকা একটি ধারালো বঁটি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। তবে সহকারী শিক্ষিকা ঝর্না আক্তার দ্রুত সেটি কেড়ে নেন।
এরপরও পরিস্থিতি শান্ত না হয়ে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে জুনায়েদ মো. মহিউদ্দিনকে চেয়ারে ফেলে গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার পাল জানান, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতেই একজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও অপরজনকে শোকজ করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।