
মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৫ উদযাপনকে ঘিরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান। এতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক রহমান, বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট এহসান সিরাজী, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুদ রানা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল করিম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) ডা. মো. সোহেল রানা, মালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন, সালদানদী বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. আলী হোসেন, আনসার ভিডিপির কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদি হাসান জুয়েল উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মো. রেজাউল করিম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আমির হোসেন, বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান এডভোকেট ড. মোবারক হোসাইন এবং ব্রাহ্মণপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মেদ লাভলু।
সভায় জানানো হয়, এ বছর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় মোট ১৭টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা উদযাপনকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা বজায় থাকবে। উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ রাখাল চন্দ্র শীল ও সাধারণ সম্পাদক কাজল চন্দ্র সরকারসহ বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের সভাপতি–সম্পাদকরা সভায় উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এটি সার্বজনীন উৎসব। এখানে ধর্মীয় সম্প্রীতির সঙ্গে মিলেমিশে আনন্দ ভাগাভাগি করার এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়। পূজা মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, ব্রাহ্মণপাড়ার ১৭টি পূজা মণ্ডপেই যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন হয়। পূজা মণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সবাই সহযোগিতা করলে এ উৎসব আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে। বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রশাসন সব সময় আপনাদের পাশে থাকবে।”
স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি ও প্রশাসনের এই উদ্যোগে ব্রাহ্মণপাড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভেতর ইতিবাচক সাড়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর আশা, পূজা উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির সুন্দর উদাহরণ সৃষ্টি করবে।