মো.শাহজাহান বাশার
দেশে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। রোববার (৩১ মে) রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেনের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৫ টাকা, যা আগে ছিল ১৪০ টাকা। একইভাবে পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। তবে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম আগের মতোই ১১৫ টাকা বহাল রাখা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে নতুন এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম সোমবার (১ জুন) থেকে কার্যকর হবে।
এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পর বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির ফলে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারকারীদের ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ এপ্রিল সরকার এক দফায় জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছিল। সে সময় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সর্বশেষ ঘোষণার ফলে মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে অকটেনের দাম মোট ২৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ২৪ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ২৩ টাকা বৃদ্ধি পেল। ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন, কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় নীতির কারণে ভবিষ্যতেও জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত সমন্বয় হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।